ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের এক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাদের সমর্থকদেরও সাবেক ইরাকি স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। খবর ইরানের ফার্স নিউজের।
আইআরজিসির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামেজান শরিফ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) তেহরানের বাহারেস্তান স্কয়ারে ২০৫তম গণসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন। তিনি একই সঙ্গে 'সেক্রেড ডিফেন্স ডকুমেন্টস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এর প্রধান। ইরান ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাকের সঙ্গে চলা যুদ্ধের স্মরণে 'সেক্রেড ডিফেন্স' বা পবিত্র প্রতিরক্ষা দিবসের বার্ষিকী পালন করছে।
'অহংকারী শক্তির জোট' বা 'ফ্রন্ট অব অ্যারোগ্যান্স'-এর সর্বাত্মক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে শরিফ বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ন্যাটোর সমন্বয়ে গঠিত একটি বড় জোটের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আল্লাহর কৃপায়, জনগণের প্রতিরোধ ও সাহস এবং নেতার প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে সাদ্দাম, বাথ শাসন এবং কুর্দিস্তানের কমালা পার্টি ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর যে পরিণতি হয়েছিল, ঠিক একই পরিণতি ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং তাদের সব সমর্থকেরও হবে।'
এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হওয়ার পর এবং সামরিকভাবে আক্রমণের সব উপায় ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুপক্ষ নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্বের সামরিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সামনে মার্কিন সামরিক শক্তির 'ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য' চেহারা উন্মোচিত করেছে। একই সঙ্গে এই সংঘাত ইরানের প্রতিরোধের সংস্কৃতির শক্তিও তুলে ধরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করে। এর প্রায় আট মাস আগে তারা দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করে। এ সময় নারী ও শিশুসহ হাজারো বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন।
এর জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা হামলা চালায়। ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
শেষ পর্যন্ত ইরানের পাল্টা অভিযানে হামলাকারীদের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও চাপ তৈরি হলে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয় বলে তেহরানের দাবি।
জুনের মাঝামাঝি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসান এবং দুই দেশের বিরোধ নিরসনে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন।