উপকূল রক্ষার বার্তায় টনির পদযাত্রা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৭৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হাঁটছেন হাইকার ও পরিবেশকর্মী মাসফিকুল হাসান টনি (২৯)।

‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ নামের এ অভিযানের সপ্তম দিনে ২৪৫ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে পৌঁছেছেন তিনি।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটায় পৌঁছানোর পর রাতে এখানে অবস্থান করেন টনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অষ্টম দিনে তাঁর রাঙ্গাবালী পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

টনি বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর অভিযানের সপ্তম দিনে ২৪৫ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পেরিয়ে এসে পৌঁছেছি কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অষ্টম দিনে ইচ্ছে আছে রাঙ্গাবালীতে পৌঁছানোর।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পাঁচ নদীর মুখ থেকে এ পদযাত্রা শুরু করেন টনি। উপকূলের প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের জীবন-জীবিকা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাছ থেকে দেখা এবং এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই তাঁর এ অভিযানের উদ্দেশ্য।

অভিযানের পথে পাথরঘাটার মাছের আড়তে গিয়ে উপকূলের ভোরের কর্মব্যস্ততা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরে বিষখালী নদী পার হয়ে বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে পায়রা নদীর তীরে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে নদীর মাছ ও তাঁদের জীবন-জীবিকা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

স্থানীয় কয়েকজন জেলের ভাষ্য, আগের তুলনায় পায়রা নদীতে মাছের প্রাপ্যতা কমেছে। বিষখালী নদীতে তুলনামূলকভাবে মাছ বেশি পাওয়া গেলেও পায়রায় ইলিশ ও পোয়া ছাড়া অন্যান্য মাছের প্রাপ্যতা কম বলে জানান তাঁরা।

টনি বলেন, নদী শুধু পানি প্রবাহের জায়গা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলে, নৌকা, জাল, মাছের আড়ত, বাজার এবং উপকূলের বহু পরিবারের জীবিকা। তাই নদীর স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবিকার সম্পর্কটি উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

পায়রা নদী পার হয়ে তালতলী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও তরুণেরা তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। বৃষ্টি ও প্রতিকূল পথ পেরিয়ে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ধরে তেঁতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, কিল্লা ও মরা নিদ্রার চর অতিক্রম করে কুয়াকাটায় পৌঁছান।

নাটোরের বনপাড়ার বাসিন্দা টনি পেশায় বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ২০১৯ সাল থেকে দীর্ঘপথে হাইকিং করছেন তিনি। এর আগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ভোমরা থেকে সাকা হাফং এবং রৌমারী থেকে চর কুকরিসহ বিভিন্ন দীর্ঘপথের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

তবে এবারের অভিযানকে শুধু অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে দেখছেন না টনি। তাঁর ভাষায়, অ্যাডভেঞ্চার শুধু নিজের আনন্দের জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। উপকূল ধরে হাঁটার সময় মানুষের কথা শুনছি, তাঁদের বার্তা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

কুয়াকাটা থেকে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য রাঙ্গাবালী। এরপর ভোলা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূল ধরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সাত দিনে ২৪৫ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া টনির সামনে এখনো বাকি প্রায় ৫০৫ কিলোমিটার পথ।

 

 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত