রাঙ্গাবালীতে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের অভিযোগ সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জমি নিয়ে বিরোধের একটি মামলায় ঘুষ নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনি গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন।

মোশাররফের দাবি, নয়াভাঙ্গুনি গ্রামে তিনি সাড়ে ৬৭ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে ৯ শতাংশ জমি নিয়ে মাকসুদা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে।

বিরোধীয় জমিতে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হলে গত ১৫ জুন মাকসুদা বেগম, নুর আলম প্যাদা ও রুনু আক্তারের বিরুদ্ধে গলাচিপার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মোশাররফ। তার দাবি, নুর আলম প্যাদা ও রুনু আক্তার মাকসুদা বেগমের সহযোগী।

মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক বাচ্চু প্রতিবেদন দেন। পরে বিবাদী পক্ষ পুনঃতদন্তের আবেদন করলে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মোশাররফের অভিযোগ, ২৫ আগস্ট স্বাক্ষরিত সার্ভেয়ারের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়নি। তার দাবি, ওই প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিবাদীদের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোশাররফ বলেন, বিরোধীয় জমিতে বিবাদীরা ভবন নির্মাণের জন্য ইটের গাঁথুনি শুরু করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। অথচ সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনে বিবাদী পক্ষকে ওই জমিতে টিনশেড ঘর, ভবন ও বাগান করে ভোগদখলে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তার দাবি, বিরোধীয় জমিতে বিবাদীদের কোনো ভবন নেই। সেখানে থাকা বাগান ও টিনশেড ঘর তার নিজের। ২০০৭ সাল থেকে তিনি সেখানে বসবাস করছেন। বিবাদীদের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর থাকলেও সেখানে তারা বসবাস করেন না এবং সেটিও বিরোধীয় জমির মধ্যে নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া বিবাদী পক্ষ ১৯ শতাংশ জমি কেনার দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করেনি বলেও অভিযোগ করেন মোশাররফ হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি পটুয়াখালী। আমি আসতেছি। এসে কথা বলব।’ এরপর অভিযোগের বিষয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত