গঙ্গামতিতে সরছে ম্যানগ্রোভ ঘেঁষা সেই রেস্তোরাঁ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকের পাশে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘেঁষে নির্মাণাধীন সেই কাঠের রেস্তোরাঁর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের বাধার পর স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখার পাশাপাশি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নির্মাণ করা কাঠের কাঠামো খুলে নেওয়া শুরু করেছেন স্থাপনাকারীরা।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর' কুয়াকাটা গঙ্গামতি লেকের পাশে স্থাপনা, শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ে।

বন বিভাগের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, স্থাপনা নির্মাণের প্রথম দিনই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এরপর বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ায় রেস্তোরাঁ নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে নির্মাণ করা কাঠের খুঁটি ও পাটাতনসহ বিভিন্ন অংশ খুলে নিয়ে যাচ্ছেন স্থাপনাকারীরা।

তিনি বলেন, আমি প্রথম দিনই সেখানে গিয়ে কাজ করতে বাধা দিয়েছি। এরপর কাজ বন্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল থেকে তারা কাঠের স্থাপনাটি খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে সরেজমিনে দেখা যায়, ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম পাশে গঙ্গামতি লেক ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের একেবারে পাশে কাঠের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কাঠের খুঁটি স্থাপন এবং পাটাতন তৈরির কাজও করা হয়েছিল। স্থাপনাটির আশপাশে ছিল কেওড়া, গেওয়া, সুন্দরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ ও অন্যান্য গাছপালা।

এ নিয়ে পরিবেশকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের এত কাছে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আরও স্থাপনা গড়ে উঠতে পারে। এতে ম্যানগ্রোভ বন, জলাশয় ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বন ও জলাশয়ের পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এর কলাপাড়া উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় জমির মালিকানা থাকলেও ইচ্ছেমতো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে স্থাপনা নির্মাণ করতে হয়। গঙ্গামতির মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। আমরা চাই কখনোই বন ধ্বংস না হোক এবং কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত