ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও পাঁচ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান।
এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরদিন হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। ওই কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাসকে দ্বিতীয় এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাজেদুর রহমানকে তৃতীয় সদস্য করা হয়।
তবে কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনা দেখা দিলে ১৬ সেপ্টেম্বর আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
নতুন কমিটির প্রধান করা হয় হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে করা হয় সদস্যসচিব। নতুন কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রাখা হয়েছে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি থাকলে তা উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়।
নতুন তদন্ত কমিটির নির্ধারিত তিন কার্যদিবস রবিবার শেষ হয়েছে। তবে তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় কমিটির প্রধান আরও পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়ানোর জন্য লিখিত আবেদন করেন। পরে সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের সময় আরও পাঁচ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় কমিটির প্রধান আরও পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়ানোর জন্য রবিবার লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরও পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে এখনই খণ্ডিতভাবে কিছু বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের অনেকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন।
এ ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করে আসছে। তাদের ভাষ্য, মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন এবং দুজন আগুনের আতঙ্কে মারা গেছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি ছিল কি না, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসার কথা রয়েছে।