ট্রেনে আগুন নিয়ে রিজভীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জামায়াত

তদন্ত ও প্রমাণের আগে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় জামায়াতের ওপর চাপানো ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে দলটি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার আগেই একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় দলটির ওপর চাপানো সম্পূর্ণ অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুরভিসন্ধিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি রিজভীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

জুবায়ের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিজেই বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করেছেন। একই নীতিতে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, নৈরাজ্য ও জনসম্পদ ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তার রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, কোনো স্থানে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমীরকে লংমার্চ করতে বলা মূল ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না। কে বা কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

জুবায়ের আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অপরাধের সঙ্গে একটি দলের নাম জড়িয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আরও সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশা করেন তারা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তদন্তের আগে অভিযোগ এবং প্রমাণের আগে রায় দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করা উচিত।

ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরসহ সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে জুবায়ের বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণই হবে তার বিচারের ভিত্তি—এটাই আইনের শাসনের দাবি।

বিবৃতিতে তিনি রিজভীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত