ঘাট ইজারা দিয়ে বছরের পর বছর রাজস্ব আদায় করছে সরকার। অথচ সেই ঘাটে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারে নেই কার্যকর কোন পদক্ষেপ। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে সড়কটি।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর ৯নম্বর বিএসসি ঘাটে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। উঠে গেছে পিচ ও খোয়া, ভেঙে গেছে সড়কের একাধিক বড় বড় অংশ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে যানবাহনে করে পণ্য আনা নেওয়া তো দূরের কথা,সাধারণ মানুষও হেঁটে চলাচল করতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানানা, বিএসসি ঘাট দিয়ে কর্ণফুলীবাসীর চট্টগ্রাম শহরে পারাপারের একমাত্র পথ হচ্ছে সড়কটি। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঘাট পারাপারের জন্য হাজারও মানুষ যাতায়াত করে থাকে। উপজেলার জুলধা ডাঙ্গারচরসহ আশপাশের এলাকার শহরমুখী শ্রমজীবি ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াত,পণ্য পরিবহন ও ঘাটকেন্দ্রিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে রীতিমত সড়ক হয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে ঘাটে যাবে সে অবস্থাও নেই সড়কটির। ফলে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে বিকল্প পথ পাড়ি দিচ্ছে লোকজন।
সরেজমিনে দেখা যায়,সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্তের গভীরতা ও বিস্তৃতি দিন দিন বাড়ছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। আবার কোথাও প্রচন্ড রোদেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ঘাটে যাওয়ার নির্ধারিত সড়কটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় শহরমুখী শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে একটি শিল্পকারখানার জায়গার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,ওই পথটি কোনো সরকারি বা নির্ধারিত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নয়। তবুও মূল সড়ক ব্যবহার করতে না পারায় বাধ্য হয়ে তারা বিকল্প পথটি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়রা জানায়,সড়কের পাশের জায়গাটিতে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা,আলো কিংবা স্থায়ীভাবে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে সেখানেও কাদা ও পানি জমে গেলে সেটাও তখন চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী,গার্মেন্টসে কর্মরত নারী শ্রমিক,বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা,যেকোনো সময় ওই বিকল্প পথেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে কর্মস্থলমুখী শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ঘাট ব্যবহারকারী এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন,বছরের পর বছর সড়কটির এই দশা,সবাই দেখেও যেন না দেখার ভান করে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়। তখন কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝা যায় না। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা,পায়ে হেঁটে ঘাট পর্যন্ত যাবে ওই অবস্থাও নেই।
বিএসসি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল কাদের জানান,আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশন থেকে এই ঘাট ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছি। প্রথম দিকে রাস্তাটি ঠিক ছিল তখন এই রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ ঘাট পারাপার করত। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা এতোটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে। যার ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ধরে একটি শিল্পকারখানার জায়গার ওপর দিয়ে চলাচল করছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান বলেন, জুলধা ডাঙ্গারচর বিএসসি ঘাট সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনাদের মাধ্যমে আবগত হলাম। সড়কটি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।