শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগে ১৫ সার ডিলার জেলহাজতে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলার ২০ ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় ১৫ জনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই মামলার ১৬ জন আসামি হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাঁদের মধ্যে একজনকে জামিন এবং বাকি ১৫ জনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত ২০ জন আসামির সবাই পূর্বে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নেন। তাঁদের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাঁদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জামিন দেন এবং বাকি ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁদের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।

জেলহাজতে যাওয়া সার ডিলাররা হলেন—সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার, যার মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা; ৮২১ টন ডিএপি সার, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা; ১৩৪ টন টিএসপি সার, যার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে পিপি আব্দুল মান্নান বলেন, আসামিদের মধ্যে ১৫ জন উচ্চ আদালতের আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। উল্লেখিত মামলার ২০ জন আসামি বিভিন্ন সময়ে আট সপ্তাহ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর করে নেন। তাঁদের মধ্যে আজ ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত