খিচুড়ি খেতে চাওয়াটাই কাল হলো মিমের

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

সাত বছরের শিশু মিম আক্তার। ছোট্ট অবুঝ মিমের ইচ্ছে হয়েছিল নানুর হাতের খিচুড়ি খেতে। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, সেই সামান্য আকুতিই মিম আক্তারকে টেনে নিয়ে গেল এক অন্ধকার ও নৃশংস পরিণতির দিকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট বড়বাড়ি এলাকার মিজান মিয়ার ফুটফুটে মেয়ে মিম আর নেই। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর তার অর্ধগলিত নিথর দেহটি যখন উদ্ধার করা হয়, তখন মানুষের চোখের জল আর আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। মিমের পিতা মিজান মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন ‘আমার মেয়েটার কী দোষ ছিল, কে বা কারা এমন করে আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিল, আমি তাদের বিচার চাই।’

মিমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোট্ট মিম নিজেই নানু আমেনা বেগমকে ফোন করে আবদার জনিয়ে বলেছিল ‘নানু, আমার না খুব খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করছে!’ নাতনির এমন আবদারে নানু বলেছেন, ‘আচ্ছা, তুমি তোমাদের ফ্রিজ থেকে এক পোটলি মাংস নিয়ে আসো, আমি এখনই রান্না করে দিচ্ছি।’ মায়ের অজান্তেই একটি কালো পলিথিনে মাংসের পুটলি নিয়ে একা একাই রওনা দেয় সে। বাড়ি থেকে নানুর বাড়ির দূরত্বটা খুব বেশি নয়, কিন্তু মাঝপথটুকুতে ছিল ঘন ঝোপঝাড় আর নির্জনতা। মিম বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর তার মা জোসনা আক্তারও একই পথে নানুর বাড়ির দিকে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে যখন মিমের মা জিজ্ঞেস করলেন ‘মা, মিম কোথায়?’ তখন নানু অবাক হয়ে বলেন, ‘মিম তো আসেনি!’ এরপরই পরিবারের মানুষ, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই মিলে দিগি¦দিক ছুটে বেড়ান।

প্রতিটি ঝোপঝাড়, পুকুরপাড় আর চেনা-অচেনা জায়গায় মিমের নাম ধরে ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনো দিক থেকে সেই চেনা গলা মিমের সাড়া আসেনি। সময় যত গড়ায়, নিখোঁজ মিমের মা-বাবার চোখের জল তত শুকিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে মিমের নানা ফিরোজ মিয়া নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

গত সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে মিমের নানু বিদ্যাকুট বড়বাড়ির পুকুরপাড় দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে ঝোপের মধ্যে মিমের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে শিশুটির কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি, ওসি তদন্ত, ডিবি, পিআইবিসহ আরও অনেক সংস্থাই গিয়েছে। সবাই মিলে মাঠে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, গতকাল  মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট আসলে জানা যাবে এর কারণ। তবে মিমের পরিবারটি ভালো, তাদের কোনো শত্রু নেই বলেও এলাকাবাসী জানান। নিহত মিমের মা অসুস্থ। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত