কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগে ১৫ ডিলার জেলহাজতে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ এএম

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সদর উপজেলার ২০ ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় ১৫ জনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ জন আসামি হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের মধ্যে একজনকে জামিন দেন এবং বাকি ১৫ জনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত ২০ জন আসামির সবাই এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নেন। এদের মধ্যে ১৬ জন গতকাল দুপুরে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জামিন দেয় এবং বাকি ১৫ জনকে উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জেলহাজতে পাঠায়।

জেলহাজতে যাওয়া সার ডিলাররা হলেন সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি সার (মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি সার (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে পিপি আব্দুল মান্নান বলেন, আসামিদের মধ্যে ১৫ জন উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করায় তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। মামলার ২০ জন আসামি বিভিন্ন সময়ে আট সপ্তাহ করে জামিন মঞ্জুর করে নিয়ে আসেন উচ্চ আদালত থেকে। এদের মধ্যে গতকাল ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত