বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ 

আজ থেকে বৃষ্টি হতে পারে দেশজুড়ে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ এএম

সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির রেকর্ড খুবই কম। ১৩৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র তিনটি ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত করেছিল। আর বর্তমানে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে গতকাল সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বইছে। তবে এর প্রভাবে আজ থেকে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশজুড়েই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি মঙ্গলবার রাত ১২টার পর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

এর প্রভাবে উপকূলে কী প্রভাব পড়তে পারে এ প্রশ্নের জবাবে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বুধবার থেকে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশের বাকি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর এই বৃষ্টি আগামী দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।’

অপরদিকে নিম্নচাপের এই উত্তাল পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে উপকূলের বৃষ্টিপাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সাগর উত্তাল থাকায় আমরা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মাছধরার সব নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।’

এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরও তাদের পূর্বাভাসে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপ আকারেই স্থল নিম্নচাপ হিসেবে উপকূল অতিক্রম করবে বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি মঙ্গলবার মধ্যরাতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং শুক্রবার ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের ইতিহাসে সেপ্টেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির তেমন কোনে লক্ষণ নেই। আর মৌসুমি বায়ু যেহেতু এখনো বিদায় নেয়নি তাই এখনই সাগরের নিম্নচাপগুলো ঝড়ে পরিণত হওয়ার উপযোগী পরিবেশ পাবে না। স্বাভাবিকভাবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির উল্লেখ্যযোগ্য সময় হলো প্রাক-বর্ষা মৌসুম (এপ্রিল-মে) ও বর্ষা পরবর্তী  মৌসুম (অক্টোবর-নভেম্বর)। প্রাক-বর্ষা মৌসুমে গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর বর্ষা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তের সময়টি ঘূর্ণিঝড়ের উর্বর সময়। এছাড়া বর্ষার শেষে মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর এবং শীতকাল শুরু হওয়ার আগের সময়টিও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সময়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত