ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড় করোনা তত্ত্ব

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

ফুটবল জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন এক মোড় নিয়েছে আদালত। আর্জেন্টাইন মহাতারকার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান দ্বিতীয় দফার বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সান ইসিদ্রো ফরেনসিক অফিসের বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি দাবি করেছেন, ম্যারাডোনার মৃত্যুর পেছনে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংশ্লিষ্টতা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

একই সঙ্গে, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণায় ছটফট করেছিলেন, প্রসিকিউশনের এমন ধারণাও জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন এই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ক্লারিনের তথ্য অনুযায়ী, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পাবলো ফেরারি ম্যারাডোনার মৃত্যুকে একটি ‘ফুলমিনেন্ট ডেথ’ বা আকস্মিক মৃত্যু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ডিফেন্স আইনজীবী ভাদিম মিশানচুকের প্রশ্নের জবাবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি সরাসরি বলেন, ‘আমরা বাদ দিতে পারি না যে তিনি কোভিডে মারা গেছেন। ম্যারাডোনার মৃত্যু মহামারীর ঠিক মাঝেই ঘটেছিল।’ 

তদন্তে ম্যারাডোনার যন্ত্রণার যে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার তত্ত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, ফুসফুসে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তরল জমে তীব্র পালমোনারি এডেমা তৈরি হয়েছিল, যার কারণে শ্বাসকষ্ট হয়ে দ্রুত হৃদরোগে আক্রান্ত হন ম্যারাডোনা। এই প্রসঙ্গে পাবলো বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের মতো শেষ মুহূর্তের যন্ত্রণা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এখানে ম্যারাডোনা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন, অ্যারিমিয়া হয় এবং তীব্র পালমোনারি এডেমার কারণে তার শ্বাসরোধ হয়ে যায়। তীব্র পালমোনারি এডেমায় আক্রান্ত কোনো মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট পেয়েছে, এটি ভাবা কঠিন। এই সময়টা ছিল খুব সংক্ষিপ্ত। আমি একাডেমিকভাবে এটা বলতে পারি না যে তার দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণা হয়েছিল। এটি ছিল আকস্মিক।’ 

তবে এই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কিছু বিতর্কের জন্মও দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। জেরার মুখে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলোর চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথিপত্র তিনি পুরোপুরি পড়েননি, কারণ কিছু অংশ হাতে লেখা হওয়ায় তা স্পষ্ট ছিল না। বিচারক গাইগ যখন তাকে প্রশ্ন করেন যে পুরো নথি বিশ্লেষণ না করেই তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কি না, তখন ফেরারি তা নিশ্চিত করেন। এছাড়া প্রসিকিউটর প্যাট্রিসিও ফেরারি তার যোগ্যতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এদিকে এই বিচারপ্রক্রিয়া এর আগেও বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ভুলে বারবার হোঁচট খেয়েছে। এর আগে গত মাসের শেষদিকে তদন্তে এক বড় ধরনের গরমিল প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য জমা দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টের বড় অংশই ছিল আসলে তার মৃত বাবা ডিয়েগো সালুস্তিয়ানো ম্যারাডোনার! নাম এক হওয়ার সুবাদে ঘটা এই মারাত্মক ভুলের কারণে এক নেফ্রোলজিস্ট ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সাক্ষ্য দেওয়ায় বিচারকাজে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এসব ভুলত্রুটি ও নতুন সব প্রমাণের ভিড়ে বিচারপ্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত ধাপের দিকে এগোচ্ছে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর এই দ্বিতীয় ট্রায়ালে এখন পর্যন্ত ৭৪ জন সাক্ষী নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আসামিরা চাইলে নিজেদের বক্তব্য দিতে পারবেন। এরপর আগামী অক্টোবর মাসের ৮, ১৩ ও ১৪ তারিখে প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের সমাপনী যুক্তি উপস্থাপন করবে এবং পরবর্তীতে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর ডিফেন্স পক্ষ তাদের যুক্তি তুলে ধরবে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজতে আদালতের এই বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত