চুরির অপবাদে শিশু ও মাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের পর ভয়ে ওই শিশু ও তার মা চার দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম জিসান (১২)। সে গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে। তার মা নাজমা বেগমের অভিযোগ, মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে তাকেও মারধর করা হয়েছে।

নাজমা বেগম বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। এর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তার স্বামী। তবে ওই টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।

নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণের জন্য কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। বৃষ্টির কারণে সড়ক কর্দমাক্ত থাকায় চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তারা।

নাজমা বলেন, গত শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসান ও তাকে তাদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। তার অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধর করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে জিসান ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই দিন আগের ঘটনায় আঘাতের জায়গাগুলো কালো দাগ হয়ে গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ওই ছেলে চোর এবং এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তার দাবি, প্রশাসন তাকে দুই-একটা ‘পিডান-পুডান’ দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেছিল।

শিশুটির মাকে কেন মারধর করা হয়েছে জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, তারা এলাকার জাত চোর। শিশুটির মা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হন এবং ছেলেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতে বলেছি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি। পুলিশ এমন কোনো অপেশাদার কথা বলেনি এবং বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত