সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের অপ্রতিরোধ্য সাফল্যের পেছনে ডাচ ফুটবল দর্শনের বড় ভূমিকা ছিল। অথচ নিজেদের হারানো গৌরব উদ্ধার ও খেলার ধারা ফিরিয়ে আনতে এবার এক স্প্যানিশ বিশ্বকাপজয়ী তারকার ওপরই ভরসা রাখছে নেদারল্যান্ডস। ডাচ্ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও কোচ জাভি হার্নান্দেজ।
১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম কোনো বিদেশী কোচকে ডাচ জাতীয় দলের ডাগআউটে দেখা যাবে। কাল বৃহস্পতিবার আমস্টারডামে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ডাচ কোচ হিসেবে জাভির অভিষেক হতে যাচ্ছে। চার বছরের চুক্তিতে আসা এই কোচের অধীনে আসন্ন আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে উয়েফা নেশনস লিগের আরও তিনটি ম্যাচ খেলবে নেদারল্যান্ডস।
রোনাল্ড কোমান ও লুই ভ্যান গালের অধীনে দলের খেলার ধরন এবং কৌশল নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, কাউন্টার অ্যাটাকভিত্তিক ফুটবল খেলতে গিয়ে দুই কোচই বলের দখল রেখে আক্রমণাত্মক খেলার ঐতিহ্যবাহী ‘ডাচ্ ফুটবল ফিলোসফি’ বিসর্জন দিয়েছেন। যদিও ভ্যান গালের অধীনে দল ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং কোমানের অধীনে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে উঠেছিল, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।
ডাচ্ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও সাবেক আন্তর্জাতিক তারকা নাইজেল ডি ইয়ং জাভিকে দলে ভেড়ানোর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন। তিনি জানান, "নেদারল্যান্ডস ঠিক কেমন ফুটবল খেলতে চায়—এটি তারই প্রতিফলন। এর অর্থ হলো মাঠে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা এবং দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা। বলের দখল রাখার পাশাপাশি রক্ষণেও আমরা আধিপত্য তৈরি করতে চাই, যাতে গোল কম হজম করে ম্যাচ জেতা যায়।"
৪৬ বছর বয়সী জাভির কোচিং ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও ফুটবলার হিসেবে তার কৌশল, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীলতার সুনাম সর্বজনবিদিত। তাছাড়া বার্সেলোনার কোচ হিসেবে প্রথম মৌসুমেই লা লিগা জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের ট্যাকটিক্যাল দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন।
জাভির অধীনে ডাচ মিডফিল্ডার টিজানি রেইন্ডার্স নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "প্রথম বৈঠকের পর থেকেই মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি। নতুন চিন্তা ও নতুন ধারার ফুটবল দলের জন্য খুবই ইতিবাচক হবে।"
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চার বছরের চুক্তিতে আসা জাভি জানান, খেলোয়াড়রা তার ফুটবল দর্শন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। নিজের খেলার মডেলকে তিনি পাঁচটি শব্দে ব্যাখ্যা করেছেন—পজেশন (বলের দখল), পজিশন (অবস্থান), প্রেসিং (প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা), পারসেপশন (খেলার গতিপ্রকৃতি বোঝা) এবং প্যাশন (আবেগ)।
জাভি বলেন, "ম্যাচ জিততে হলে বলের দখল রাখতে হবে এবং সঠিক পজিশন ধরে রাখতে হবে। বল পজেশন হারালেই প্রেসিং শুরু করতে হবে। চারপাশের পরিস্থিতি বোঝার জন্য তীব্র পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দরকার। কিন্তু আবেগ ছাড়া ফুটবল খেলা সম্ভব নয়।"
তবে দর্শন যাই হোক না কেন, জয়ের দিকেই যে তার মূল নজর থাকবে, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। তিনি যোগ করেন, "আমি বিশ্বাস করি এই ডাচ দলটির মধ্যে জয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।"
ব্রাজিলের কাছে কোনো ম্যাচই প্রীতি ম্যাচ নয়: আনচেলত্তি