মানুষের জীবন অমূল্য হলেও প্রায় প্রতিদিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব খবর আমাদের ভাবিয়ে তোলে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? কেন মানুষ এত সহজে অন্যের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে? ইসলাম মানুষের জীবনকে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছে। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করাকে মহাপাপ ঘোষণা করেছে। তাই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সচেতনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ভয়াবহতা বোঝাতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যে একজনের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।
ইসলাম হত্যাকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখেনি। ইচ্ছাকৃত হত্যার ব্যাপারে কোরআন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম।’ (সুরা নিসা ৯৩) রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও অন্যায়ভাবে এমন প্রাণ হত্যা থেকে সতর্ক করেছেন, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম রক্তপাতের বিষয়ে বিচার করা হবে। অতএব হত্যাকারী শুধু দুনিয়ার আইনের কাছেই নয়, বরং আখেরাতেও তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাগ, প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তির দ্বন্দ্ব, মাদক, অপরাধীচক্র কিংবা আধিপত্য বিস্তারের মতো নানা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো কারণই নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার বৈধতা দেয় না। অনেক হত্যাকাণ্ডের শুরু হয় সামান্য কথা-কাটাকাটি থেকে। এরপর উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি।
তাই হত্যার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে হবে সহিংসতা শুরু হওয়ার আগেই, মানুষের চিন্তা, আচরণ ও মূল্যবোধ পরিবর্তনের মাধ্যমে।
পরিবারের দায়িত্ব হলো, সন্তানকে মানুষের জীবনের মূল্য, রাগ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমা, সহনশীলতা ও অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা শেখাতে হবে।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে আরও সক্রিয় হতে হবে। কোনো বিরোধ বড় সংঘাতে পরিণত হওয়ার আগেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার