নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তাঁর আসন্ন নিউ ইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাত থাকবেন না এবং সফরটি মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করবেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বৈঠকে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান না বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব বৈঠকের কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থাপিত গোয়েন্দা তথ্যে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কবার্তা ছিল, যার ভিত্তিতেই তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করার এই সুপারিশ করা হয়। তবে সতর্কবার্তার সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বুধবার গভীর রাতে ইসরায়েল ত্যাগ করবেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন। সেখানে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পরপরই ওই দিনই তিনি ইসরায়েলে ফিরে যাবেন।
গাজা উপত্যকায় হামলা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে নিউ ইয়র্কে তাঁর উপস্থিতিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর এই সফরের একদিন আগেই নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তাঁকে একজন ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মূল কারিগর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন যে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের আইনগতভাবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষমতা নেই। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
ট্রাম্পের সঙ্গে হচ্ছে না বৈঠক
নেতানিয়াহুর এই সংক্ষিপ্ত সফরসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সুযোগ থাকছে না। অথচ এর আগে দুই নেতার মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বেশ চেষ্টা করা হয়েছিল।
মার্কিন ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কে দুই নেতার অবস্থান ও সময়সূচি এমনভাবে মেলেনি যা বৈঠকের সুযোগ করে দিতে পারে। অন্যদিকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, সেই তালিকায় নেতানিয়াহু নেই।
এ ছাড়া টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত একটি সফরও বাতিল করা হয়েছে। যদিও সেই সফরের প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েলের অগ্রগামী একটি দল আগেই সেখানে পৌঁছেছিল।
সব মিলিয়ে, সফরসূচির একের পর এক কর্মসূচী বাতিল হওয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার মধ্যেই কার্যকরভাবে সীমাবদ্ধ থাকছে নেতানিয়াহুর এই যুক্তরাষ্ট্র সফর।