টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকার নির্মিত সেতু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এর দ্বারা কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। মূল সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণকাজে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ফলে বাধ্য হয়েই আধুনিক এই ব্রিজে উঠতে স্থানীয়দের ব্যবহার করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও ব্রিজের রেলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। মূল কাঠামোর কাজ শেষে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন সংযোগ সড়কের কাজ আটকে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে তার অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উত্তর পাশে নামমাত্র মাটি ফেলে কাজ প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ ফুট খাড়া ও আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষ ব্রিজে উঠছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে ব্রিজের ওপর পর্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ জীবন বাজি রেখে চলাচল করছেন।
কামারপাড়া গ্রামের মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, আমার বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হয়ে বাজারে যাবো। কাজের যে অবস্থা তাতে সেই আশা পূরণ হবে কিনা আল্লাহই জানেন।
আরেক বাসিন্দা আবজাল হোসেন জানান, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এই সেতুটি সম্পূর্ণ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে এবং মানিকগঞ্জ ও ধামরাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর পার্টনার মো. ইসলাম জানান, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘ বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা স্থানীয়ভাবে সুরাহা করা হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলমান থাকলেও জনভোগান্তি কমাতে কাজের গতি আরও বাড়ানো দরকার।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন জানান, কামারপাড়া ব্রিজের বাকি থাকা কাজ ও সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের এর আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সব জটিলতা নিরসন হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। আইনি ও স্থানীয় জটিলতা এরই মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে এবং দ্রুতই সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।