নেত্রকোনায় নিখোঁজের ৫ দিন পর সাবেক স্বামীর বাড়ির পেছনে নদীর পাড়ে মাটির নিচ থেকে নাজু আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের ঢুলি খালি নদীর পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে বিকালে অভিযুক্ত নুরুল আমিনকে শহরের শহীদ মিনারের মোড় থেকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নদীপাড়ের মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে নেত্রকোনা শহরের কাটলি এলাকার নাজু আক্তারের সাথে নুরুল আমিনের বিয়ে হয়। তাদের ৬ বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রথম সন্তান হওয়ার পর কাবিনের টাকা পরিশোধ করে নাজুকে তালাক দেন নুরুল আমিন।
পরবর্তীতে পুনরায় তারা বিয়ে করে সংসার শুরু করেন এবং দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সাংসারিক কলহ না কমায় আবারও তাদের মধ্যে তালাক হয়। এরপর নাজু বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন এবং নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে খোরপোষ ও ধর্ষণের মামলা করেন।
তালাক ও মামলা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শহরের মাইকপট্টি এলাকায় দুজনের দেখা হলে খোরপোষের বকেয়া ৬ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে নাজুকে নিয়ে রওনা হন নুরুল আমিন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে মৌগাতি ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজের কাছে শ্মশান ঘাটে নিয়ে নাজুকে গলার ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। পরে রাতেই নদীর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়।
এদিকে বোনকে খুঁজে না পেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নাজুর ছোট ভাই শুভ।
জিডির সূত্রে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে নাজুকে নুরুল আমিনের সাথে যেতে দেখে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, জিডি হওয়ার পর তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে প্রথমে ভিকটিমের বোরকা ও ওড়না এবং পরবর্তীতে মাটির নিচ থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।