কুয়াকাটার সড়কে দীর্ঘ ২০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা পরিচিত মুখ আব্দুর রশিদ আর নেই।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে পর্যটননগরী কুয়াকাটায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পুরোনো পোশাক পরে কুয়াকাটার সড়কে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করতেন রশিদ। পর্যটকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি। কোনো বেতন কিংবা পারিশ্রমিক ছাড়াই পর্যটকদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন এই মানুষটি।
জীবনের শেষ সময়ে এসে বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে পড়েন রশিদ। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতে ছিলেন তিনি।নিজের সংসারেও ছিল অভাব-অনটন। পর্যটক, পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোরকমে চলত তার সংসার।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, রশিদ মিয়া দীর্ঘ ২০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পর্যটকদের সেবা দিয়েছেন।নিজের সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও তিনি মানুষের সেবা থেকে পিছপা হননি। তার মৃত্যুতে কুয়াকাটা একজন নিঃস্বার্থ সেবককে হারালো।
কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি ডা. এম এ মান্নান চৌধুরী বলেন, আব্দুর রশিদ ছিলেন কুয়াকাটার একজন পরিচিত ও মানবিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পর্যটক ও স্থানীয়দের সেবা করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
কুয়াকাটার সড়কে একসময় যার হাতের ইশারায় যানবাহন চলত, যার কারণে পর্যটকেরা পেতেন নির্বিঘ্ন চলাচলের সেবা, সেই মানুষটির চলে যাওয়া গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের।
পুরোনো পোশাক পরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পরিচিত মানুষটিকে হয়তো আর দেখা যাবে না। তবে পর্যটকদের সেবায় তার দীর্ঘ ২০ বছরের নিঃস্বার্থ অবদান ও স্মৃতি কুয়াকাটার মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।