পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারী এবং উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক নিয়ে রাড্ডা হাসপাতালে হামলা চালান।
হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার হামলার সময় হাসপাতালের সামনে পুলিশের দুটি গাড়ি উপস্থিত ছিল বলে টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে। হামলা শুরুর পর পুলিশ সেখান থেকে সরে যায়।
মিরপুরের পুলিশের ডিসির বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডিসি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করেছিলেন। ওসি তাঁকে জানান, একটি পক্ষের কাছে মালিকানার কাগজপত্র রয়েছে। পরে ওসি ওই ব্যক্তিকে ডিসির সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য, এর অর্থ হামলা করতে যাওয়া ব্যক্তিদের কেউ একজন থানায় ছিলেন অথবা ওসির সামনে ছিলেন।
পোস্টে জমিটির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগে জমিটি বিহারিদের সম্পত্তি ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানায় যায়। পরে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবহারের জন্য জমিটি দেয়। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে ওই জমিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে।
হাসনাত বলেন, পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি লিজ নেয়। এ নিয়ে রাড্ডা হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে, যা এখনও চলমান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের এক নেতা জমিটিকে পারিবারিক সম্পত্তি দাবি করে মামলা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’ও দুই পক্ষের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দখলদার পক্ষটির সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্ট অনুযায়ী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক বিএনপি কাউন্সিলর প্রয়াত সাঈদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ও বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর বোন।
জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা ও রিট চলমান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ—কোনো পক্ষ কীভাবে শত শত লোক নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দখল বুঝে নিতে পারে?
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন একটি হামলা সংঘটিত হলো এবং পুলিশ কেন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেল। যারা দখল নিতে এসেছিল, তাদের কাছে কাগজপত্র থাকার দাবি কি চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে তাদের নিজেদের উদ্যোগে সম্পত্তি দখল নেওয়ার অধিকার দেয়—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’ কেবল দখলের দৃশ্যমান একটি ব্যানার। তাঁর অভিযোগ, এর আড়ালে প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি এমপি, পুলিশ ও দলের মাধ্যমে মিরপুর-১-এর ১০ কাঠা জমিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
পোস্টে তিনি জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য নিয়েও দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ কাঠা জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রশ্নটি শুধু রাড্ডা হাসপাতালের ওপর হামলা বা দখল নেওয়ার নয়। ১৯৭৪ সাল থেকে যে জায়গায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে এবং আদালতে যার মালিকানা ও লিজ নিয়ে মামলা চলমান, সেই জায়গা রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির মাধ্যমে দখল হয়ে যাবে কি না—প্রশ্নটি সেখানেও।
সবশেষে তিনি বলেন, যদি সত্যিই এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের যোগসূত্র থেকে থাকে, তাহলে সেটি শুধু একটি জমি দখলের ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের একটি ‘নগ্ন উদাহরণ’।
১০ম গ্রেডের নিয়োগ নিয়ে সরকারের উদ্যোগের সমালোচনায় হাসনাত
ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোরে না বলুন: হাসনাত আবদুল্লাহ
দায়িত্ব নিজের কাঁধে না নিলে পরিবর্তন আসে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ
হাসনাতের সঙ্গে সংসদ ভবন ঘুরে দেখল ১৫৩ শিক্ষার্থী