ইতালির লজ্জা, জিতেও অস্বস্তিতে ফ্রান্স

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২ এএম

গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর যে ইতালিয়ান ঐতিহ্য, রবার্তো মানচিনির প্রত্যাবর্তনে তার লেশমাত্রও দেখা মিলল না। ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের তরুণ আক্রমণভাগের সামনে ইতালির রক্ষণ দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো বিবর্ণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের ডাগআউটে জিনেদিন জিদানের রাজকীয় মিশন শুরু হয়েছে জয়ের সুবাস নিয়ে। কিন্তু তুরস্কের বিপক্ষে সেই ১-০ গোলের জয় ফরাসিদের যতটা না স্বস্তি দিয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে ম্যাচের মূল নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের চোটের কারণে মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটি।

ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সত্তর হাজার ধারণক্ষমতার অলিম্পিক স্টেডিয়ামটি ছিল অনেকটাই ফাঁকা। আর গ্যালারির সেই নিস্তব্ধতার মতো ইতালির মাঠের পারফরম্যান্সও ছিল বিবর্ণ। বেলজিয়ামেরও নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেল। তবে চোটের কারণে ছিলেন না লিয়ান্দ্রো ত্রসার, জেরেমি ডোকু ও আন্দ্রে ওনানা। থিবো কোর্তোয়া দলেই ছিলেন না। শুরু একাদশে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, শার্ল দে কেতেলারে ও দিয়েগো মোরেইরা।

খেলার বয়স ৭ মিনিট হতে না হতেই জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে রুখে দিতে হয় দ্য কেতেলারের কোনাকুনি শট। একটু পরই নিকোলো বারেল্লার বানিয়ে দেওয়া বলে ফ্রানসিসকো পিয়ো এসপোশিতোর শট পোস্টের গোড়ায় লেগে ফিরে আসে, যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে। এরপর দূর থেকে দেওয়া মোইজে কিনের শট পরীক্ষা নেয় বেলজিয়ান গোলরক্ষকের। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে প্রথম গোল খেয়ে বসে ইতালি। রোমানোর ভুল পাস কেটে নিয়ে ডি ব্রুইনা বল বাড়িয়ে দেন গোডটসকে। ডি-বক্সে ঢুকে জিয়ানলুকা মানচিনিকে কাটিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান গোডটস।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে দোদি লুকেবাকির দূরপাল্লার নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও রোমেলু লুকাকু বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখলে ইতালির হতাশা আরও বাড়ে। ঘরের মাঠে এই ২-০ গোলের হারে মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনাটা পুরোপুরি বিবর্ণ হয়ে যায়, যা নিয়ে ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি কোচ মানচিনি নিজেও, ‘আমাদের এখন কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে, ব্যস এতটুকুই। আমরা জানি সামনের ম্যাচগুলো কঠিন হতে যাচ্ছে, যেমনটা বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ছিল। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং দু-একটি হারে মন খারাপ বা হতাশ হওয়া চলবে না।’

ইতালির এই দুর্দশার উল্টো ছবি দেখা গেছে তার ঠিক বিপরীত প্রান্তে, যেখানে তুরস্কের মাঠে ফরাসি ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন দিদিয়ের দেশমের উত্তরসূরি জিদান। তুরস্কের বিপক্ষে কঠিন সেই ম্যাচটিতে ফ্রান্স ১-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও জয়ের আনন্দ মুহূর্তেই ফিকে হয়ে যায় বড় এক ধাক্কায়। ৫৫ মিনিটে জুলস কুন্দে ও শেরকির পাস ধরে নিখুঁত শটে জাতীয় দলের হয়ে রেকর্ড ৬৭তম গোলটি করেন এমবাপ্পে। কিন্তু গোল করার সেই উদ্যাপনের মুহূর্তেই বাঁ হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে যাওয়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। বাধ্য হয়ে ৫৯ মিনিটে তাকে তুলে নিতে হয়।

ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, হাঁটুর টেন্ডনে চোট লাগার কারণে এমবাপ্পে আন্তর্জাতিক বিরতির চলতি ক্যাম্প থেকে ছিটকে গেছেন। বেলজিয়াম ও ইতালির বিপক্ষে ফ্রান্সের আসন্ন ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না। উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রিয়াল মাদ্রিদে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যাবে তিনি ঠিক কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন। তবে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ এবং ২৫ অক্টোবরের বহুল প্রতীক্ষিত ‘এল ক্লাসিকো’তে তার খেলা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত