ট্রেন দুর্ঘটনায় কাটা পড়ল দুই পা: অবশেষে চলে গেলেন রাবেয়া

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

দুই মেয়ের চোখের জল আর স্বজনদের কান্নায় শেষ হলো রাবেয়া খাতুনের (৩৭) শেষ বিদায়। শনিবার ট্রেনে উঠতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো রাবেয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার সকালে রাজধানীর খিলক্ষেত টানপাড়ায়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় খিলক্ষেত টানপাড়ার সরকারবাড়ি ঈদগাহ ময়দানে রাবেয়া খাতুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় নিকুঞ্জ-টানপাড়াসহ আশপাশের এলাকার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে ঈদগাহ ময়দানের পরিবেশ।

জানাজা শেষে রাবেয়া খাতুনকে খিলক্ষেত টানপাড়া পশ্চিমপাড়ায় তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রাবেয়া ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামী মনিরুল ইসলাম খিলক্ষেত টানপাড়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তাঁদের ঘরে রয়েছে দুটি মেয়ে। মায়ের নিথর দেহ সামনে রেখে দুই মেয়ের কান্না উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রাবেয়া রাজশাহী থেকে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্টেশন সূত্র জানায়, স্টেশনে নির্ধারিত বিরতি শেষে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছিলেন রাবেয়া। এ সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইনে পড়ে যান তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের চাকায় তাঁর দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাত পান তিনি।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় রাবেয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।

এক দিনের ব্যবধানেই যে নারী জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তাঁকেই নিথর হয়ে ফিরতে হলো আপনজনের কাছে। রেখে গেলেন দুটি ছোট মেয়েকে, স্বামীকে এবং অসংখ্য স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে।

রবিবার সকালে সরকারবাড়ি ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সরকারবাড়ির মাদ্রাসাতুন নুরিয়া ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা কামরুজ্জামান সরকার কাসেমী, নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান সরকার সৈকত ও যুগ্ম সম্পাদক মুকুল হোসাইন মৃধা।

এ ছাড়া জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক জাকির হোসেন ভূঁইয়া, সোসাইটির নেতা মতিউর রহমান স্বপন, আমির হোসেন আমির, মাই টিভির সিনিয়র রিপোর্টার রাকিব হাসানসহ মরহুমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জানাজা শেষে রাবেয়া খাতুনকে যখন পারিবারিক কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন দুই মেয়ের কান্না আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে পশ্চিমপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

একটি ট্রেনযাত্রা শেষ হওয়ার কথা ছিল গন্তব্যে পৌঁছে। অথচ সেই যাত্রাই রাবেয়ার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে গেল। পেছনে রইল দুটি মেয়ে, স্বজনদের অশ্রু আর একটি পরিবারের অপূরণীয় শূন্যতা!

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত