যুদ্ধ, বিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তীব্র খাদ্যসংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ৭১ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই বিশেষ তহবিলের বড় অংশ ব্যয় করা হবে সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন এক বিশেষ ভিডিওবার্তায় এই ঐতিহাসিক সহায়তার ঘোষণা দেন ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, সংঘাত, চরম আবহাওয়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বহু মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আফ্রিকার বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া সম্প্রদায়গুলোকে সহায়তা করবে এই অর্থ। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সাব-সাহারান আফ্রিকায় অভিবাসনসংক্রান্ত কর্মসূচির জন্য ৩৮ কোটি ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা, স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়া এবং পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে।
এ ছাড়া সংঘাত, খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা মোকাবিলায় সাব-সাহারান আফ্রিকার জন্য আরও ৯ কোটি ৭০ লাখ ইউরো দেওয়া হবে। কঙ্গো ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলায়ও এ অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করা হবে। কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য আলাদাভাবে ৭৫ লাখ ইউরো এবং সংঘাত, মানবিক সংকট ও পরিবেশগত পরিবর্তনে জর্জরিত গ্রেট লেকস অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ১ কোটি ইউরো দেওয়া হবে। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ কোটি ৩০ লাখ ইউরো এবং ইউক্রেনের মানবিক সহায়তা ও জরুরি প্রস্তুতির জন্য ৫ কোটি ২০ লাখ ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সময় ইইউ নতুন তিনটি গ্লোবাল গেটওয়ে বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছে। এর মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তার জন্য ইইউর একটি গ্যারান্টি, কলম্বিয়ায় টিকা ও জৈবিক ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ঋণ এবং ইথিওপিয়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে ৬ কোটি ইউরোর বিনিয়োগ রয়েছে। ইইউ কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় কমিশনের মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২৫০ কোটি ইউরো গেছে। নতুন এই বিশাল মানবিক প্যাকেজে যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং তীব্র খাদ্যসংকটে ঝুঁকতে থাকা লাখ লাখ মানুষের জীবনরক্ষাকারী হাত আরও প্রসারিত হলো।