রিসোর্ট-হাউজবোটে বাড়ছে আগ্রহ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

হ্রদ, পাহাড় ও ঝরনার দেশ রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের ভ্রমণপছন্দে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। একসময় ঝুলন্ত  সেতুতে ঘোরাঘুরি, কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ, পাহাড়ি ঝরনা কিংবা নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে ভ্রমণ সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন অনেকেই প্রকৃতির বেশ কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইছেন। এমন চাহিদা থেকেই কাপ্তাই হ্রদ ও এর আশপাশে রিসোর্ট এবং হাউজবোট-কেন্দ্রিক পর্যটনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

বড় দলের সঙ্গে নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার পাশাপাশি অনেকে এখন ছোট দল বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে আগ্রহী। রিসোর্ট ও হাউজবোট সেই সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে পরিবার, বন্ধুদের দল কিংবা ছোট পরিসরে ব্যক্তিগত ভ্রমণে আসা মানুষ হাউজবোট পছন্দ করছেন। হ্রদের পানিতে চলতে চলতে পাহাড়, মেঘ, সূর্যাস্ত ও সবুজ প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি রাতযাপনের সুযোগ তাদের টানছে। পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম ও নিরাপদে রাতযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। 

হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বার্গি লেকের স্বত্বাধিকারী বাপ্পী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পর্যটকরা এখন নিরিবিলি স্থানে হ্রদের ধারে রাত্রিযাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমন আগ্রহ বিবেচনায় রেখে রিসোর্টগুলো তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি হাউজবোটের মাধ্যমে ৭০ জন পর্যটক হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর

সুযোগ রয়েছে।

মায়াবী দ্বীপের পরিচালক রিকো চাকমা বলেন, একজন পর্যটক যখন শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য কোনো এলাকায় যান, তখন ব্যয়ের পরিমাণ তুলনামূলক সীমিত থাকে। কিন্তু রাতযাপন ও দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ চাইলে আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য সেবায় ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

কাপ্তাই হ্রদ ও পার্বত্য এলাকার পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে হাউজবোট ও রিসোর্টের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে হাউজবোট থেকে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনের পানি সরাসরি হ্রদে গিয়ে পানি দূষণ করছে। একইভাবে পাহাড় কেটে কিংবা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা তৈরি করে রিসোর্ট নির্মাণ করা হলে ভূমিধস, বন উজাড় ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পর্যটনের সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন এবং পাহাড় ও হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো কঠোরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন, এমনটি মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের পরিচালক হেফাজত সবুজ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের শর্তপূরণ ও অনুমতি ছাড়া যাতে কোনো হাউজবোট পানিতে নামতে না পারে, পাহাড় কাটাসহ প্রকৃতির কোনো ক্ষতিসাধন করে, যাতে রিসোর্ট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রিসোর্টগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নজর রাখতে হবে। 

অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ, সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক ব্যবহার, কঠিন ও তরল বর্জ্য হ্রদে ফেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১২টি রিসোর্টকে নোটিস দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের ব্যবসার কারণে যাতে হ্রদ দূষণসহ পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, ‘রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পর্যটকদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে

নানান পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই এই বিষয়ে

কাজ শুরু করব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত