পর্যটনের এক উদীয়মান শহর

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ এএম

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িকে বর্তমানে পর্যটনের এক উদীয়মান শহর বলা হয়। এক সময় যা ছিল কেবলই দুর্গম পাহাড়, আজ তা রূপ নিয়েছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন আর জীবিকার প্রধান উৎসে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটির জেলার বাঘাইছড়ির উপজেলার সাজেকের রুইলুইকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পর থেকে খাগড়াছড়িতে পর্যটন আসা শুরু করেছেন। তার বিশেষ কার হলো সাজেরে রুইলুই যেতে হলে খাগড়াছড়ি হয়ে যেতে হয়। তবে এখন খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এক সময় খাগড়াছড়িতে একটি মাত্র পর্যটন স্পট ছিল আলুটিলা, এখন খাগড়াছড়িতে অনেক পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে শহরের অদূরে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক। এ ছাড়া মাটিরাঙ্গা উপজেলার রিছাং ঝরনা, মাইসছড়ি দেবতা পুকুর, পানছড়ি ভাইবোনছড়া মায়াবিনি লেক উল্লেখযোগ্য। রয়েছে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

আলুটিলা পর্যটন খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র ৬-৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই স্পটটি তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নির্মল বাতাস এবং রহস্যময় গুহার জন্য পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। এখান থেকে খাগড়াছড়ি শহর এবং চেঙ্গী নদীর আঁকাবাঁকা অপরূপ দৃশ্য একনজরে দেখা যায়।

এখানকার অন্যতম বড় আকর্ষণ ১৮৪ ফুট দীর্ঘ একটি লোহার ঝুলন্ত সেতু, যা দুটি পাহাড়কে সংযুক্ত করেছে। এই সেতুতে রয়েছে একটি কাচের বারান্দা, যেখান থেকে নিচে তাকালে মনে হয় যেন শূন্যে বা পাহাড়ের ওপর ভেসে আছেন। এ ছাড়া এখানে রয়েছে নন্দনকানন, রোমান কোলোসিয়ামের আদলে তৈরি চমৎকার একটি মুক্তমঞ্চ এবং চারপাশের সৌন্দর্য দেখার জন্য ওয়াচ টাওয়ার। স্থানীয়ভাবে ‘মাতাই হাকড়’ বা ‘দেবতার গুহা’ নামে পরিচিত আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহাটি প্রায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঘেরা এই গুহায় একসময় মশাল নিয়ে ঢুকতে হতো, তবে এখন স্মার্টফোনের আলো ব্যবহার করেই অনায়াসে চলাচল করা যায়। রোমাঞ্চকর এই গুহাটির এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

অন্যদিকে রিছাং ঝরনা খাগড়াছড়ি শহর থেকে ১০-১১ কিলোমিটার দূরে, এটি একটি প্রাকৃতিক ঝরনা। এটি ১৯৯৩-৯৪ সালে আবিষ্কার হয়েছিল। এটি বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করে।

খাগড়াছড়ির অন্যতম পর্যটন স্পট জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, শহরের অদূরে জিরো মাইল এলাকায় প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে, পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে চালু করা হয়েছিল। এই পার্কের মূল আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু, কৃত্রিম হৃদ, কায়াকিং বোট ও প্যাডেল বোট রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি নতুন করে জায়ান সুইং ও জীব লাইন দুটি রাইডস সংযুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি রাইডস সংযুক্ত করার ফলে খাগড়াছড়ি পর্যটন শিল্প নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাড়ছে পর্যটন ও দর্শনার্থীর সংখ্যা।

এ ছাড়াও খাগড়াছড়িতে আছে পুরনো ঐতিহ্যবাহী দেবতা পুকুর যা, স্থানীয় ভাষায় মাথাই পুকিরী বলে। এটি মাইসছড়ি নুনছড়ি এলাকা পাহাড়ের ওপর। এই পুকুরটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ ফুট ওপরে। এই পুকুরটি কবে কীভাবে কখন সৃষ্টি হয়েছিল তা কেউ জানেন না। এ ছাড়াও খাগড়াছড়িতে মায়াবিনি লেক, পানছড়ি অরণ্য কুঠির, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রসহ অনেক ছোটখাটো দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

পর্যটন নিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, তিনি চেষ্টা করবেন কীভাবে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও সমৃদ্ধ ও পর্যটকবান্ধব করা যায়। কেন্দ্রগুলোতে আরও নতুন নতুন রাইডস যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত