প্রতি মাসেই মূসক ও সম্পূরক শুল্ক দাখিলপত্র দিতে হবে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

প্রতি মাসেই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক বিষয়ে দাখিলপত্র সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার বিধান করে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ওই সংশোধন অনুমোদিত হয়।

উল্লেখ্য, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্যাটের ক্ষেত্রে কর মেয়াদের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। কর মেয়াদ প্রতি ৩০ বা ৩১ দিন বা এক মাস। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি একটি খ্রিষ্টীয় মাসকে একটি কর মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর আগে প্রতি তিন মাস বা প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে দাখিলপত্র দেওয়ার বিধান ছিল। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-তে সংশোধনের জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

সংশোধনীতে প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধানের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বেসরকারি পর্যায়ে ১৫তম (পনেরো) দিবসে সরকারি ছুটি থাকলে তৎপরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে পারবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আয়করের ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল বা বছর হিসাব করা হয়। এক. আয় বছর : যে নির্দিষ্ট ১২ মাসে একজন করদাতা অর্থ উপার্জন করেন, তাকে আয় বছর বলা হয়। বাংলাদেশে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে আয় বছর ধরা হয়। দুই. কর বছর : আয় বছর শেষ হওয়ার ঠিক পরবর্তী বছরটিকে বলা হয় কর বছর। এই বছরে পূর্ববর্তী আয় বছরের অর্জিত আয়ের ওপর কর হিসাব করা হয় এবং রিটার্ন জমা দিতে হয়। সরকার এরই মধ্যে অর্থবছর পরিবর্তন করেছে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে পরবর্তী ১২ মাস (৩১ মার্চ পর্যন্ত) অর্থবছর গণনা করা হবে। সে হিসেবে আয়ের বছর ও করবর্ষের হিসাবও পরিবর্তিত হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত