পরমাণু ইস্যুতে অগ্রগতি হলে ইরানকে ছাড় দিতে রাজি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা ওয়াল্টজের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ইরানের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সংশয় রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেন।

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

পরমাণু ইস্যুতে ইরান ‘সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি’ দেখালে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা অর্থ ছাড় দিতে রাজি আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার মধ্যে সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে। তবে পরমাণু ইস্যুর সমাধান না হলে কোনো চুক্তি হবে না। শনিবার ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

রবিবার ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সোমবার ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তাদের কিছুই প্রস্তাব করিনি।’

রবিবার ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, তবে সেটি আমার কাঙ্ক্ষিত চুক্তি নয়। এক বছর আগে হয়তো আমরা যে ধরনের চুক্তিতে সম্মত হতে পারতাম, তারা সেটিই চাইছে। তারা নিজেদের অবস্থান অতিরিক্ত শক্ত করে ফেলেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানান, পরমাণু ইস্যুতে ইরান নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে দুই পক্ষ এখনো প্রতিশ্রুতিগুলো কখন এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি।

রবিবার সিএনএনের জেক ট্যাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয় বলে মনে করায় ট্রাম্প তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার অভিযোগ, তেহরান আলোচনার আগে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে।

ওয়াল্টজ বলেন, ‘তারা শুরুতেই সবকিছু চাচ্ছিল এবং এরপর আলোচনা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল।’

পরে এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ বলেন, ইরানের প্রস্তাবের ওপর ট্রাম্পের আস্থা না থাকার বিষয়টি ‘স্বাভাবিক’। তার দাবি, তেহরান এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা তারা নিজেরাও জানত যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা ওয়াল্টজের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ইরানের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সংশয় রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই সমঝোতার পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে তা লঙ্ঘন করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত