অভিবাসন নীতি শিথিলের ইঙ্গিত ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যেমন নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। লেবার পার্টির একাধিক এমপি ও ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি শিথিল করার চাপের মধ্যে তিনি এ অবস্থান জানালেন।

লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মাহমুদ বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারের কিছু অংশকে অনেকে ন্যায্য মনে করছেন না। তবে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসী এবং ব্রিটিশ নাগরিক—দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রেইন’ পেলে একজন ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল দেশটিতে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সরকারি বিভিন্ন সুবিধাও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমান নিয়মে অধিকাংশ অভিবাসী পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। মাহমুদের প্রস্তাবে এই সময় বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়া কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে বলেও প্রস্তাব করা হয়।

এ নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেই আপত্তি দেখা দিয়েছে। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনারসহ দলের কয়েকজন এমপি এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন।

এর আগে রেনার এমপি থাকাকালে সরকারের বিরুদ্ধে অভিবাসন নীতিতে ‘মাঝপথে নিয়ম বদলানোর’ অভিযোগ করেছিলেন। তিনি মাহমুদের পরিকল্পনাকে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ বলেও সমালোচনা করেছিলেন। পরে মন্ত্রিসভায় ফিরেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।

ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসনের মহাসচিব আন্দ্রেয়া ইগান বলেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বিদেশ থেকে আসা পরিচর্যা খাতের কর্মীদের ওপর। তার মতে, এতে তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে।

তবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিবাসন আইনে পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্মেলনে মাহমুদ শুধু ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে, তা তুলে ধরেছেন।

মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যেমন নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। যারা বৈধভাবে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং যারা এরই মধ্যে দেশটিতে বসবাস করছেন—দুই পক্ষের প্রতিই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, অ্যাঞ্জেলা রেনার ও তাঁর সমর্থকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন মাহমুদ। তার দাবি, এতে সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ব্রিটিশ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, রেনারের আপত্তির কারণে মাহমুদ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন—বিষয়টি এমন নয়। তার মতে, অভিবাসন নীতিতে এমন একটি ভারসাম্য দরকার, যাতে বিভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় আসে।

ব্রিটিশ রেডিও এলবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যামকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি ‘টিম শাবানা’ নাকি ‘টিম অ্যাঞ্জেলা’। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দুজনেরই।’ তিনি জানান, বিষয়টি এখনো পরামর্শ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত