‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’ বলা পিডিবির প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।

পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার আহমেদের সই করা এক চিঠিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

এর আগে রবিবার রাতে ঘুষ দাবির ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নুরুল আমিনকে বিভিন্ন প্রকল্পের মালামাল, ঠিকাদারদের বিল ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। আট মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নুরুল আমিন বলছেন, এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ছয় কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।

তিনি বলেন, একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে।

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, সোজা হিসাব, তিন লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। হিসাব করে দেখা যাবে পাঁচ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। পাঁচ কোটি টাকা থেকে আমাকে দুই কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।

ভিডিওতে তাকে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা নিতে দেখা গেছে। তবে ওই ব্যক্তিরা গোপন ক্যামেরার পেছনে থাকায় মুখ দেখা যায়নি।

ভিডিওতে তিনি ওই ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে কত?’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এক লাখ ৩৫।’ ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।’

এ বিষয়ে জানতে সোমবার সকালে ও দুপুরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে নুরুল আমিনকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হাওয়ার পরদিন সোমবার ভোরে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে সরকারি বাসভবনে অবস্থান করেন। এদিন অফিসে ফেরেননি তিনি। গণমাধ্যমকেও কোনো সাক্ষাৎ দেননি। সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকারে তিনি সরকারি বাসভবন থেকে বেরিয়ে যান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত