১০ এয়ারবাস কেনার ঘোষণা বিমানমন্ত্রীর

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম

অবশেষে ফ্রান্স থেকে ১০টি এয়ারবাস কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক চাপে নয়, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘যাত্রী চাহিদার আলোকে গঠিত বিমানের নেটওয়ার্ক ফ্লিট প্ল্যানিং, এয়ারক্রাফট রেঞ্জ, যাত্রী ধারণক্ষমতা, ফ্লাইট প্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকোয়েন্সি বিবেচনায় ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডির উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়াইড বডির উড়োজাহাজ মূলত পশ্চিম এশিয়ার উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ রুটের জন্য এবং ন্যারো বডির উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা বিমানের পুরনো ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে।’ আফ্রিকার এয়ারলাইনস ইথিওপিয়ানের মডেল অনুসরণ করে এসব উড়োজাহাজ কেনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানের বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস মডেল অনুসরণ করছি। একটি ছোট লিগ্যাসি ক্যারিয়ার থেকে এখন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বহরে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যেখানে আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ারে রয়েছে মাত্র ১৯টি। ‘আপনারা জানেন, ইথিওপিয়ার তুলনায় আমাদের জিডিপি বেশি এবং আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদাও বেশি। বর্তমানে আমাদের মোট চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশের কিছু বেশি বিমান পরিবহন করতে পারছে। বাকি ৮০ শতাংশই বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে। তাই উড়োজাহাজ স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।’ সব মিলিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের জন্য মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা এলো। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি এবং ফ্রান্সভিত্তিক এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি সুপ্রশস্ত (ওয়াইড বডি) এ ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি ন্যারো বডির এ ৩২১ নিও।

নতুন ঘোষণা দেওয়া ৩৫টি উড়োজাহাজের দাম পরিশোধের জন্য বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না তুলে ধরে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে এগুলোর দাম পরিশোধ করা হবে। ডেলিভারি ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, রুট-আয় ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই সরাসরি বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না।’

এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছিলেন, এয়ারবাস বর্তমান সরকারের জন্য ‘পরীক্ষা’। তার ইঙ্গিত ছিল এয়ারবাস কেনার ওপর সরকারের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক নির্ভর করবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে বোয়িং কেনার পথে পা বাড়ায় বিমান। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে। এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে তখন মার্কিন কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত