সমাবর্তনের অপেক্ষা শেষ হয় না

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ এএম

চার বছর স্নাতক, এরপর এক বছর স্নাতকোত্তর ৫ বছরের শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থী অপেক্ষায় থাকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যেখানে গায়ে কালো গাউন, মাথায় সমাবর্তনের টুপি, আর আকাশে ছুড়ে দেওয়া সেই টুপির সঙ্গে একটি ছবিতে বন্দি করবে সেই স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। কিন্তু দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো গ্র্যাজুয়েটের সেই স্বপ্ন এখনো অধরা। কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন এক দশকেরও বেশি আগে, কেউ চাকরি করছেন, কেউ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গেছেন; অথচ এখনো পাননি সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

শিক্ষাজীবনের শেষ ধাপ পেরিয়েও সমাবর্তনের অপেক্ষায় বছরের পর বছর বসে আছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা। কারও অপেক্ষা ১৮ বছর, কারও ১৭ বছর। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একবারও সমাবর্তন হয়নি প্রতিষ্ঠার পর। আবার কোথাও প্রথম সমাবর্তন হওয়ার পর দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষা গড়িয়েছে ছয় থেকে আট বছরে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে একবার সমাবর্তন হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ৩০টি। ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো সমাবর্তন আয়োজন হয়নি, যদিও এর মধ্যে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি। মাত্র একটি সমাবর্তন হয়েছে ছয়টিতে। তিনবার বা তার বেশি সমাবর্তন হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ১০টি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমাবর্তন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েটদের মূল সনদ দেওয়া হয় না। এর পরিবর্তে একটি সাময়িক সনদ দেওয়া হয়। তবে এই সনদ নিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্র্যাজুয়েট হওয়া শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাময়িক সনদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের স্বাক্ষর থাকে না; কেবল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর দেওয়া হয়। এতে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা বিদেশে আবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সনদটি ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মূল সনদ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত নথি চাইলে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েন।

এ ছাড়া সাময়িক সনদ তৈরিতে ব্যবহৃত কাগজের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একটি একাডেমিক নথি হিসেবে সনদটির কাগজের মান আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন মূল সনদ না পাওয়ায় এবং সাময়িক সনদ নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি ও উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়ায় অনাকাক্সিক্ষত ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমাবর্তন আয়োজন এবং মূল সনদ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৮ সালে। প্রতিষ্ঠার দেড় যুগে ৬ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে জুঠেনি একটি সমাবর্তনও। সমাবর্তন নিয়ে গত এক দশক ধরে বেরোবির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রশাসনের সমালোচনা করে লেখালেখি করলেও তা আমলে নেয়নি প্রশাসন। তবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর সমাবর্তন আয়োজনের চেষ্টা শুরু করেন। রহস্যজনকভাবে তা আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছিল। পরে জাতীয় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সমাবর্তন স্থগিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবেও সমাবর্তন আয়োজন সম্ভব হয়নি। বেরোবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী জসীম উদ্দিন বলেন, সমাবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়; একজন শিক্ষার্থীর কাছে এটি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরিসমাপ্তির প্রতীক। কিন্তু বছরের পর বছর সমাবর্তন না হওয়ায় সেই মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো গ্র্যাজুয়েট।

দেড় যুগেও কেনো সমাবর্তন আয়োজন হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা সমাবর্তন আয়োজনে বধ্যপরিকর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা সমাবর্তনের তারিখ ও অতিথি নির্ধারণ করি, কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া অন্য কাউকে অতিথি হিসেবে মানতে রাজিনা হওয়ায় সমাবর্তনের প্রস্তুতি নিয়েও পিছু হটতে হয়। আমার মেয়াদে বেরোবিতে সমাবর্তন আয়োজনে আমি বড্ড পরিকর।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) দেশের ২৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ৫ জুন। এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ বছরও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ একর জায়গা আছে এবং পঁছাটি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। পাবিপ্রবি জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. বাবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আগামী বছরের ১৫/১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আচার্য তথা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

২০১১ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত সমাবর্তন আয়োজন করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সমাবর্তন আয়োজনের চেষ্টা করলেও সফল হননি। প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সমাবর্তন আয়োজনের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল, যা বার্ষিক বাজেটে থাকে না। বাজেটের জন্য আলাদা বরাদ্দ না পাওয়ায় আয়োজন সম্ভব হয়নি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাবর্তন হয় না ১৫ বছর

শুধু প্রথম সমাবর্তন না হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ার সমস্যাও রয়েছে পুরনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কোথাও প্রথম সমাবর্তন হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী সমাবর্তনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্র্যাজুয়েটদের। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাসে ভর্তি হচ্ছে, অন্যদিকে আগের বহু ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটরা অপেক্ষা করছেন সেই একদিনের জন্য  যেদিন গাউন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে নিজেদের অর্জনের স্বীকৃতি নেবেন। মাত্র  একটি সমাবর্তন আয়োজন করেছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।  প্রথম সমাবর্তনের প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন, যা আগামী বছরের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নানা কারণে এতদিন ধরে সমাবর্তন আয়োজন করা হয়নি। অতীতের সমালোচনা না করে আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

একইভাবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। মাত্র একবার করে সমাবর্তন আয়োজন করা হয়েছে এমন তালিকায় রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়।

বরাবরই সমাবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয় বিশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে ডিগ্রি তুলে দেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারীকে এত কাছ থেকে পাওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন আনন্দ ও গর্বের, তেমনি তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিতে এটি হয়ে থাকে একটি অনন্য অধ্যায়।

সমাবর্তনের আরেকটি বড় আকর্ষণ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের উপস্থিতি। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিত্বরা এতে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বিভিন্ন দেশের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, বরেণ্য শিক্ষাবিধ, প্রথিতযশা চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও জীবনসংগ্রামের কথা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরে সমাবর্তনকে পরিণত করে অনুপ্রেরণার এক বিরল মঞ্চে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন শুধু বিদায়বেলার আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি জ্ঞান, অর্জন, স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের এক মহৎ মিলনমেলা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সমাবর্তন ঘিরে এখনো কোনো সুসংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অথচ বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পুরো শিক্ষাজীবনের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো জানতে পারেন। সেখানে শিক্ষাজীবন শুরুর তারিখের পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাপ্তির সময় এবং সমাবর্তনের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থীর কাছে সমাবর্তন কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক আয়োজন নয়; এটি তার শিক্ষাজীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সমাবর্তনকে শুধু ডিগ্রি বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলে হবে না। একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সমাবর্তনকে বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কখন ভর্তি হবে, কখন তাদের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হবে এবং কখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি গ্রহণ করবে এর একটি ধারাবাহিক ও পূর্বনির্ধারিত কাঠামো থাকা প্রয়োজন। সমাবর্তনকে শিক্ষাজীবনের বাইরে আলাদা কোনো অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত