প্রবীণদের মর্যাদা রক্ষায় ইসলামের শিক্ষা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

মানুষের জীবনে বার্ধক্য এক অনিবার্য বাস্তবতা। আজ যিনি তরুণ, কাল তিনিও প্রবীণ হবেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে শারীরিক সক্ষমতা, বাড়ে অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন। যে মানুষটি একসময় পরিবারের সবার দায়িত্ব পালন করেছেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনিই পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এ সময় তার প্রয়োজন ভালোবাসা, সম্মান, সহমর্মিতা ও যতœ। ইসলাম প্রবীণদের প্রতি সদাচরণকে নৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

বার্ধক্যে মানুষের শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনও দেখা দেয়। একাকিত্ব, অবহেলা, অসুস্থতা ও পরনির্ভরশীলতা তাদের মনে দুঃখ তৈরি করে। অনেক প্রবীণ নিজেকে পরিবারের বোঝা মনে করেন। অথচ যার অভিজ্ঞতা, শ্রম ও ত্যাগে একটি পরিবার গড়ে উঠেছে, তার অবহেলা করা কোনোভাবেই মানবিক আচরণ হতে পারে না।

কোরআনে মহান আল্লাহ মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিতে গিয়ে বার্ধক্যের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ পর্যন্ত বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো। তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বলো, হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল ২৩-২৪)

আয়াতটি স্পষ্ট করে, মা-বাবার বার্ধক্যে তাদের সঙ্গে কোমল আচরণ করা, সেবা করা এবং সম্মান রক্ষা করা সন্তানের দায়িত্ব।

শুধু মা-বাবা নন, সমাজের সব বয়োজ্যেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সুনান আবু দাউদ ৪৯৪৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিম, কোরআনের ধারক এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনান আবু দাউদ ৪৮৪৩)

প্রবীণদের ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে সুন্দর, সহমর্মী ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মহান আল্লাহ আমাদের মা-বাবা এবং সব বয়োজ্যেষ্ঠের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সেবাযতœ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত