জাপানে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের পথ এখন আরও কঠিন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) জন্য আবেদনকারী বিদেশিদের ফি ২০ গুণ বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। খবর বিবিসির। 

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে এখন আবেদনকারীদের নতুন কিছু শর্তও পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট আয়, পেনশন-সংক্রান্ত যোগ্যতা এবং জাপানি ভাষায় দক্ষতার শর্ত।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জাপান সরকারের অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসব ফি বাড়ানো হয়েছে। দেশটিতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদেশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। 

এর আগে জুলাইয়ে সব বিদেশির জন্য ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়ায় জাপান। ৫০ বছরের মধ্যে সেটিই ছিল দেশটির প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ফি বাড়ানো হয়েছে।

জাপানে অভিবাসন এখনো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং দেশটির নীতিও তুলনামূলকভাবে কঠোর। তবে দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়া জনসংখ্যার কারণে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটি ক্রমেই বিদেশি কর্মীদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। 

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এটি দেশটির ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক বিদেশি বাসিন্দা। তবে একই সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে নিজের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখিয়ে আসছেন তাকাইচি। স্থায়ী বসবাসের ফি বাড়ানোর কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ার কারণে 'কিছু মানুষ উদ্বেগ বা বৈষম্য' বোধ করতে পারেন—সরকার বিষয়টি স্বীকার করে।

তিনি আরও বলেন, এসব উদ্বেগ মোকাবিলায় বিদেশিদের নিয়ে সরকারের নীতিগুলো সুশৃঙ্খল রাখা এবং জাপানি নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দা—উভয়ের জন্য নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত