২০২৬ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের নাম দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপ ও নীরব যন্ত্রণা এতদিন বয়ে বেড়াতে হয়েছে আর্জেন্টিনার তরুণ ফরোয়ার্ড ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমানোর পর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যাওয়ায় এবং আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনির দেওয়া পূর্ণ স্বাধীনতায় এখন সম্পূর্ণ নতুন এক শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন এই উদীয়মান তারকা।
বলিভিয়ার বিপক্ষে আজ ৪-০ গোলের বড় জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের সেই কঠিন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা জানালেন মাস্তানতুয়োনো। বিশ্বমঞ্চে সুযোগ না পাওয়ার বেদনা যেমন লুকিয়ে রাখেননি, তেমনি নতুন অধ্যায়ে কোচের আস্থা অর্জনের গল্পও শুনিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে মাস্তানতুয়োনো বলেন, ‘বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়াটা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক। তবে আমি সবসময়ই সতীর্থদের সমর্থন করেছি যেন আর্জেন্টিনা ভালো করে। ওরা এমন একটি অসাধারণ বিশ্বকাপ খেলেছে যা আমার মতে প্রতিটি আর্জেন্টাইনকে গর্বিত করেছে। এখন আমি একটি নতুন প্রক্রিয়ার কথা ভাবছি, যেখানে আমি ভালো বোধ করছি এবং সুযোগ পেতে পারি। তবে সবার আগে আমি জাতীয় দলের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।’
রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিয়া পাড়ি জমানোর পর নিজের ক্যারিয়ারে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, সে কথাও তুলে ধরেছেন এই তরুণ। বিশেষ করে কোচ স্কালোনি তাকে মাঠে যে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, তাতে তিনি ভীষণ সন্তুষ্ট। নিজের মানসিক স্বস্তি ও কোচের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি (স্কালোনি) আমাকে খেলার মাঠে প্রচুর স্বাধীনতা দেন এবং এর জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। ইতালিতে গিয়ে জীবনটা কিছুটা বদলে ফেলার পর থেকেই আমি দারুণ বোধ করছি। মাঠের সময়টা আমি বেশ উপভোগ করছি।’
তরুণ এই প্রতিভার বিকাশের জন্য তাকে আগলে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট করেছেন কোচ স্কালোনিও। সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল ফ্লোরেস ও নিকো পাজেরর মতো উদীয়মান তারকাদের সঙ্গে মাস্তানতুয়োনোর নাম উল্লেখ করে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি।
এ নিয়ে স্কালোনি বলেন ‘আমাদের এই তরুণদের যত্ন নিতে হবে, কারণ তবেই ওরা আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। ওরা প্রতিটি ম্যাচে দশ মিনিটে দারুণ কিছু করে ফেলবে, এমন প্রত্যাশা করা যায় না, যদিও তাদের সর্বসেরাটা দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। তাই ফ্রাঙ্কো কিংবা নিকোর মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের নিয়ে আমাদের ধীরে এগোতে হবে; ওরা প্রতিভাবান এবং আমরা সবসময়ই তাদের দেখভাল করব।’
মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা যখন নতুন শুরুর অপেক্ষায় সেখানে নতুনদের মধ্যেই যেন আশা খুঁজছে আর্জেন্টিনা, আর সেখানে নিজেদের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রমাণ করতেও মরিয়া তরুণ নিকো-মাস্তানরা।
চীনের কাছে ৭ গোল খেয়ে ৭ নম্বরের লড়াইয়ে বাংলাদেশ
মেসির জায়গা ‘অপূরণীয়’