শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন বলেছেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তক ছাপায় গুণগত মানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। কাগজ, কালি ও ছাপাখানার ক্ষেত্রেও কোনো আপস করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক-এমনটি চান। তাই এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি। অতীতেও সময়মতো গুণগত মানের বই ছাপানো সম্ভব হয়েছে, আগামীতেও তা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৫০ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।
মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিজেদের খাবার কিনতে পারবে। পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় নতুন খাবার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি জেলায় এ ব্যবস্থা পাইলটিং করে পরে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রতি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, আগামীতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্ন দুই জায়গা থেকে করা হবে। এর একটি হবে বিজি প্রেস এবং অন্যটি আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে। পরীক্ষা গ্রহণের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালীন দুর্যোগও এড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদন দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে।
কচুয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের সবাইকে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষ জনবল তৈরি করতে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। কচুয়ার শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে এখানে কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কচুয়ার প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়নে সেডো মিনিস্টার ও কমিটি করা হবে বলেও জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি।
গভীর রাতে প্রেস পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী