বুরকিনা ফাসোর জালে আর্জেন্টিনার ‘সেভেন-আপ’ উৎসব 

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

বুয়েনস আইরাসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছিল এক নিখুঁত গোলমেলার মঞ্চে। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একক আধিপত্য বিস্তার করে প্রকম্পন সৃষ্টি করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত তরুণদের দ্যুতি আর গোলের মেলায় ৭-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল আলবিসেলেস্তারা।

ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রাখে এই দলটি। বিমানবন্দর থেকেই খেলার সরঞ্জাম সোজা মাঠে পাঠিয়ে সংক্ষিপ্ত বিরতিতে হোটেলে গিয়ে মাঠে নামতে হয় তাদের। এমন বিপর্যস্ত ও ক্লান্ত একটি দলের পক্ষে আলবিসেলেস্তেদের সামলানো যে অসম্ভব ছিল, তা বলাই বাহুল্য। 

এর আগে ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রথম চার্টার ফ্লাইট বাতিলের খবরটি বুরকিনা ফাসো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিমানবন্দরে গিয়ে পান। ট্রাভেল এজেন্সি হুট করে চুক্তি বাতিল করতে চাইলে এবং পরবর্তী ফ্লাইটের ব্যবস্থাপনায় তীব্র বিশৃঙ্খলার জেরে মাঠে নামতে একপ্রকার বেঁক বসেন দলের মূল জাতীয় দলের বেশির ভাগ তারকা। বাধ্য হয়ে কোচ আমির আব্দোউকে দল গড়তে হয় মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের ওপর ভর করে। মূল স্কোয়াড থেকে কেবল অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বিয়াকে সঙ্গে পান তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের বড় ব্যবধান এবং দুই দলের মাঠের পারফরম্যান্সের তফাতটা স্পষ্ট হয়ে উঠতে সময় লাগেনি মোটেও। লড়াইয়ের মাত্র চতুর্থ মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন অগাস্টিন গিয়াই। ফলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট থেকে লাউতারো মার্তিনেজের প্রাথমিক শট বুরকিনা  ফাসোর গোলরক্ষক রুখে দিলেও, ফিরতি বল দারুণ রিফ্লেক্সে সরাসরি জালে জড়িয়ে দেন মার্তিনেজ। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার ৪২তম গোল, যার সুবাদে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৪ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ডটির আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।

এই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ম্যাচের অষ্টম মিনিটে আরও বড় বিপদে পড়ে সফরকারীরা। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মৌমুনি দিয়ালোর ভুল বোঝাবুঝিতে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়ে যায় (২-০)। এরপর ম্যাচের বয়স যখন মোটে ১২ মিনিট, তখন বল পায়ে দারুণ কারিকুরি দেখিয়ে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তরুণ সেনসেশন জানলুকা প্রেস্তিয়ানি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তার বর্ণিল অভিষেক গোল। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার অনেক আগেই খাদের কিনারায় চলে যায় বুরকিনা  ফাসো। ৩৫ মিনিটে নিকোলাস পাজ দারুণ এক টাইমিংয়ে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান ৪-০ করেন এবং এর ঠিক এক মিনিট পর হুলিয়ান আলভারেজ দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করে ফেলেন। একপেশে প্রথমার্ধেই ম্যাচ কার্যত নিজেদের মুঠোয় পুরে নেয় স্কালোনির দল।

বিরতির পর দুই কোচই দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। লিওনেল স্কালোনির সামনে প্রধান তারকাদের বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মাঠের খেলায় আলবিসেলেস্তাদের ধার এতটুকু কমেনি। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে দর্শকদের রোমাঞ্চিত করে মাঠের মধ্যভাগ থেকে চমৎকার এক পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা। লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা তরুণ ফরোয়ার্ড ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে রিভার প্লেটের জার্সিতে খেলা এই তরুণের আগের এক স্মরণীয় ফ্রি-কিকের স্মৃতি যেন উসকে দেয় এই গোলটি।

ম্যাচের শেষ কুড়ি মিনিটে খেলার গতি কিছুটা মন্থর হলেও আর্জেন্টাইনরা বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে পুরো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তবে ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে (যোগ করা সময়ে ৯৩তম মিনিটে) বদলি নামা জিওভানি জুলিয়ানো সিমেওনের নিখুঁত হেডার গোলটি কেবল জয়কে পূর্ণতাই দেয়নি, বরং ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধান নিশ্চিত করেছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত