ইংল্যান্ডের কাছে ৭ গোল খেয়ে ২০ বছরে প্রথমবার ‘লজ্জিত’ মদ্রিচ 

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পিএম

জাতীয় দলের জার্সিতে দুই দশকের ক্যারিয়ারে এমন হীনম্মন্যতা ও লজ্জার মুখোমুখি এর আগে কখনো হতে হয়নি লুকা মদ্রিচকে। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭-০ গোলের রেকর্ড ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার সোনালী প্রজন্মের এই অধিনায়কের কণ্ঠে ঝরে পড়েছে চরম হতাশা। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশের ফুটবলের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় পরাজয়, যা মানতেই পারছেন না ৪১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। 

রিজেকার মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল রাতের এই ম্যাচে থ্রি লায়ন্সদের হয়ে জোড়া গোল করেন হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা। এর সঙ্গে অ্যান্থনি গর্ডন, জুড বেলিংহাম ও মরগান রজার্সের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ক্রোয়াট রক্ষণ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে যায়। 

নতুন কোচ স্লাভেন বিলিচের অধীনে ঘরের মাঠে এই বিপর্যয় যেন দলটির জন্য এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এর আগে স্পেনের বিপক্ষে ৪-১ গোলের হারের পর, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ মিলিয়ে শেষ তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া হজম করেছে মোট ১২টি গোল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এই ইংল্যান্ডকেই হারিয়ে ফাইনালে ওঠা এবং কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার সোনালী স্মৃতিগুলো যেন এদিন পলকেই মলিন হয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাবিধুর অনুভূতির কথা খোলামেলা প্রকাশ মদ্রিচ বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে আছি, এবং একটি ম্যাচের পর এই প্রথম আমার এমন লজ্জা লাগছে। আপনি হারতে পারেন, কিংবা এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে পারেন যারা আপনার চেয়ে ভালো, আর এই মুহূর্তে তারাই এগিয়ে আছে। কিন্তু যেকোনো মূল্যে, এমনভাবে হেরে যাওয়া এবং বছরের পর বছর ধরে আমরা যে সুনাম তৈরি করেছি তা বিসর্জন দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। আমি লজ্জিত।’

তবে সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের আগে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক মদ্রিচ। ‘আমাদের একত্রিত হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে কারণ আরেকটি কঠিন ম্যাচ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। আমাদের নিজেদের আসল রূপ দেখাতে হবে যে আমাদের লড়াই করার ক্ষমতা, গর্ব, ইচ্ছা, শক্তির প্রকাশ ও ঐক্য আছে। আপনি রাতারাতি তা হারিয়ে ফেলতে পারেন না।’ 

এদিকে দলের এমন ভরাডুবির পর শতভাগ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন কোচ স্লাভেন বিলিচ। সংবাদমাধ্যমে ক্রোয়েটদের কোচ বিলিচ, ‘এই গ্রীষ্মে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কিছু সমস্যা ছিল, নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু দায়টা আমার... এটি কেবলই একটি সম্মিলিত ব্ল্যাকআউট ছিল।’ 

খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কথা ভেবে কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়ে বিলিচ আরও যোগ করেন, ‘এমন ম্যাচের পর বুদ্ধিদীপ্ত বা ইতিবাচক কিছু বলা কঠিন। আমি মনে করি আমরা সবাই হতাশ। আমিও হতাশ, এবং আমরা সবাই দুঃখিত। মাঠে উপস্থিত শিশুদের জন্য আমার খারাপ লাগছে... ভক্তদের জন্য, আমাদের জন্য, খেলোয়াড়দের জন্য খারাপ লাগছে। বিশ্বাস করুন, আমি এইমাত্র খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি, বিশ্বাস করুন, আমাদের চেয়ে বেশি কষ্ট কেউ পাচ্ছে না। যা ঘটেছে, তা মেনেই নিতে হবে।’ 

নেশনস লিগের এবারের আসরে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের মধ্যে কেবল একটিতেই জিতেছে ক্রোয়েশিয়া। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে সামনে আরও এক কঠিন পরিক্ষা অপেক্ষা করছে ক্রোয়েটদের। আগামী মঙ্গলবার চলমান ফিফা উইন্ডোতে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে নামবে মদ্রিচরা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত