ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিচ্ছি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ এএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট। আবাসন, নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ও রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

দেশ রূপান্তর : সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে রাজউকের ভাবনা কী?

ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম : আবাসন বলতে শুধু একটা খালি বাড়ি করে দিলেই হবে না।  

সেখানে আলো-বাতাস, পরিবেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। নতুন যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেখানে আমরা চেষ্টা করছি আবাসনের অন্য সুযোগ-সুবিধাও যাতে সঠিকভাবে কার্যকর হয়। যাতে সবার জন্য একটি যথাযথ আবাসন নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং শ্রমিক শ্রেণির মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কাজ করছে। সবাই মিলে আমরা এ বিষয়টি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।

দেশ রূপান্তর : আবাসন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও জলাশয় সংরক্ষণের বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে?

রিয়াজুল ইসলাম : রাজউকের পরিকল্পনায় জলাশয় ও খোলা জায়গা রাখার নিয়ম রয়েছে। এসব বিষয় বজায় রেখেই আমরা পর্যাপ্ত ও মানসম্মত আবাসন গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, গ্রিন বিল্ডিংসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশের সঙ্গে সামগ্রিক পরিকল্পনার সমন্বয় করে একটি টেকসই আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

দেশ রূপান্তর : ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে ঢাকার বাইরে আবাসন গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

রিয়াজুল ইসলাম : বর্তমান সরকার ঢাকার আশপাশের সাভার, কেরানীগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার কথা ভাবছে। ঢাকার ওপর যে চাপ বাড়ছে, তা কমাতে হলে আশপাশের এলাকাগুলোতে বসবাসের উপযোগী নগরকেন্দ্র তৈরি করতে হবে। তবে এর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থাও সহজ করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : ঢাকার বাইরে আবাসন গড়ে তুললে মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

রিয়াজুল ইসলাম : এ জন্য আমরা ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট বা টিওডি নিয়ে ভাবছি। শুরুতে উত্তরাসহ দুটি এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প হবে, পরে অন্যান্য এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। মানুষ যেন এসব এলাকা থেকে ট্রেন, বাস বা অন্যান্য গণপরিবহনে দ্রুত ঢাকায় আসতে পারে এবং আবার সহজে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশ রূপান্তর : টিওডি বাস্তবায়ন হলে ঢাকার ওপরের চাপ কতটা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন?

রিয়াজুল ইসলাম : উত্তরা থেকে এখন অনেক মানুষ সহজেই ঢাকায় যাতায়াত করতে পারছেন। এর অন্যতম কারণ মেট্রোরেল। সরকার আরও মেট্রোরেল নির্মাণ এবং নতুন লাইন তৈরির বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মেট্রোরেলসহ গণপরিবহনব্যবস্থা যত বিস্তৃত হবে, ঢাকার আশপাশের এলাকায় বসবাস করেও মানুষ সহজে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারবে। এতে ধীরে ধীরে ঢাকা শহরের ওপরের চাপ কমবে।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

রিয়াজুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে দেশ রূপান্তরের পাঠকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত