বাসস্থান নিরাপদ এবং টেকসই করা সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ এবং টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

আজ সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, আরও অনেকগুলো বিষয় এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।  টেকসই আবাসনের অর্থ সাধারণত আমরা যেটি বুঝি, সেটি হলো নিরাপদ পানি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন এবং উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ।  

তিনি বলেন, সকল নাগরিকদের জন্য এমন একটি নিরাপদ এবং টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে  প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।  

বাংলাদেশের শহর বন্দর নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস।  

এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি। তবে এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। তবে 'সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ' নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত এবং নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ, ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সাথে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে  জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে  শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা  একটি কার্যকর বিকল্প বলেও সরকার মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের  বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে  রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের যে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন এর বাইরে এসে বর্তমান সরকার  দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশে পাশে সেকেন্ডারী টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত। প্রকৃতি ও পরিবেশেকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর ও জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদেরকে  নানারকম চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা  উভয়েরই মুখোমুখি করছে।

এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবেলায় বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সাথে, স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে  সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবেলা  সরকারীর একরা পক্ষে সঙ্গতকারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য। সেক্ষেত্রে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের  সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকরী এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লক ভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সকল পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হলে 'সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান' এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। আমি ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ এর সকল কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত