এবার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে রামপালে

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ এএম

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের শুরু থেকেই পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। দেশের ফুসফুসখ্যাত সুন্দরবনের মাত্র ৯ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হওয়ায় কয়লার বর্জ্য, ছাই ও ধোঁয়ায় উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এবার সেই রামপালেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এর জন্য প্রকল্প তৈরি করেছে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ। এর ব্যয় ধরা হয়েছে, ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তালিকায় রয়েছে প্রকল্পটি।

জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। সভায় নতুন ১০টি ও সংশোধিত একটিসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)। প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ১২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল’ থেকে পাওয়া যাবে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায়ও প্রকল্পটি রয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের এ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ¦ালানির ওপর নির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) লক্ষ্য-৭, ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সহজলভ্য করা’র সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জানা গেছে, এর আগে ২০১২ সালে বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমিটি ব্লক-এ ও ব্লক-বি নামে দুটি অংশে বিভক্ত। এর মধ্যে ব্লক-এ অংশে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লক-বি অংশটি বর্তমানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) অধীনে রয়েছে। সেখানে ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ব্লক-বি’তে বিউবোর অধীনে ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬৩ একর গ্রিন বেল্ট, ২৩ দশমিক ৮৭ একর বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, ৯৪ একর নিম্নভূমি এবং ৩০ একর লেক রয়েছে। এসব জমি বাদ দেওয়ার পর ব্যবহারযোগ্য ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তাব করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সোলার প্যানেল স্থাপনসহ ইনভার্টার স্টেশন ও পুলিং সাবস্টেশন নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন করা হবে।

একনেকের সূচিতে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বাকি প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প; রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প; গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প; বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুইটি নতুন সিøপওয়ে নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প (বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ); ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প; ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিমি এ দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প; থানচি-রিমাকরি-মদন-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় সংশাধিত) চতুর্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প; সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ‘জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পের বিষয়ে একনেকে অবহিত করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত