হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে কুলসুম আক্তার (৯) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

কুলসুম নাসিরপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মো. জয়নাল মিয়ার মেয়ে। সে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় কুলসুম। তখন বাড়িতে ভাত রান্না না হওয়ায় তার মা তাকে মুড়ি ও চা খাইয়ে বিদ্যালয়ে পাঠান। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে স্কুলে পৌঁছে সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করে সে।

পরে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে কুলসুম। এরপর সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময় হঠাৎ তার মাথা ঘুরে যায় এবং সে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে নিচে নামিয়ে আনে। এ সময় তার মাথায় পানি দেওয়া হয়। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।

পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তার মা ও কয়েকজন শিক্ষক দ্রুত তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন লোক শিশু কুলসুমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। ইসিজি করেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুলসুমের বড় ভাই রিয়াদ মিয়া বলেন, তার বোন সকালে সুস্থ অবস্থায় স্কুলে যায়। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

কুলসুমের সহপাঠী ওবায়দুল জানায়, স্কুলের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করার পর সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময় কুলসুমের মাথা ঘুরে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিক্তা রানী দেব বলেন, কুলসুম তাদের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাকে হারিয়ে তারা খুবই মর্মাহত। অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া বলেন, একজন শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত