কতটা প্রত্যাশা পূরণ হবে, সেই বিচার দর্শকের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ এএম

নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ মানেই যেন পারিবারিক আবেগ, সম্পর্কের চিরাচরিত মায়া আর টানাপড়েন। তার নির্মিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ দর্শক মহলে তৈরি করেছিল অভূতপূর্ব সাড়া। সেই অভাবনীয় সাফল্যের পর আবারও তিনি পর্দায় নিয়ে আসছেন নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’। আজ থেকে ইউটিউব চ্যানেল ‘সিনেমাওয়ালা’ এবং একই সঙ্গে ‘চ্যানেল আই’-এর পর্দায় সম্প্রচারিত হবে নাটকটি। প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দর্শকরা দেখতে পাবেন এই নতুন ধারাবাহিক। গল্পের প্রয়োজনে যুক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখ, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শক আগ্রহ তুঙ্গে। নতুন কাজ, দেশীয় নাটকের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা হয় গুণী এই নির্মাতার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তারেক আনন্দ

‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর বিপুল সাফল্যের পর এবার আসছে ‘ফিরে আসার গল্প’। দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবেন বলে মনে করছেন?

‘এটা আমাদেরই গল্প’ দিয়ে দর্শকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কাজের দায়িত্ববোধ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এবারও আমাদের আশপাশের চেনা মানুষ আর সম্পর্কের চিরায়ত গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কতটা প্রত্যাশা পূরণ হবে, সেই বিচার দর্শকের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। তবে আমার প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

নতুন এই ধারাবাহিকে বেশ কিছু নতুন চরিত্র যুক্ত হয়েছে। তাদের সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

নতুন গল্পের প্রয়োজনেই নতুন কিছু চরিত্রকে আনা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের স্বভাব, পারিবারিক মেলবন্ধন আর জীবনের নানা টানাপড়েন বেশ বৈচিত্র্যময়। আমি চেয়েছি, স্ক্রিনে এই চরিত্রগুলোকে দেখে দর্শক যেন নিজের পরিবারের কাউকেই খুঁজে পান।

ড্রয়িংরুমে বসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে নাটক দেখার পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন। এই ধারাবাহিকতা কি অব্যাহত থাকবে?

আমি সর্বদাই এমন গল্প পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চাই, যা পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে উপভোগ করা যায়। দর্শকরা হাসবেন, আবেগে আপ্লুত হবেন, আবার নিজের জীবনের সঙ্গে তা মেলাতেও পারবেন। এই ধারা ধরে রাখার চেষ্টা আমার সবসময়ই থাকবে।

নাটক থেকে সিনেমা, আবার নাটকে ফেরা। বড় পর্দার রাজকে কবে নাগাদ পাওয়া যাবে?

চলচ্চিত্র মূলত আমার ভালোবাসার জায়গা। অবশ্যই আবার সিনেমা বানাব। তবে এমন একটা গল্প হতে হবে, যা নিয়ে মনে হবে যে এবার সত্যিই চলচ্চিত্রে ফেরা দরকার। সেই মনের মতো গল্পটি পেলেই আবার কাজ শুরু করব। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনই বলছি না।

‘সিনেমাওয়ালা’ দিয়ে নিজের স্বকীয় অবস্থান তৈরি করেছেন। কিন্তু সার্বিকভাবে দেখা যায় প্রতিষ্ঠিত ইউটিউব চ্যানেল হাতে গোনা কয়েকটা। মূল সংকটটা ঠিক কোথায় বলে মনে করেন?

একটা ইউটিউব চ্যানেল খোলা খুব সহজ হলেও নিয়মিত মানসম্পন্ন কনটেন্ট দিয়ে দর্শকের আস্থা ধরে রাখা বেশ কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আর সঠিক বিনিয়োগ। ‘সিনেমাওয়ালা’র এই দীর্ঘযাত্রায় দর্শকদের এই ভালোবাসাই আমাদের মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

নাটক প্রযোজনায় টেলিভিশনের ভূমিকা এখন অনেকটাই  ম্লান। টিভি পর্দার এই খরা দূর হওয়ার সম্ভাবনা দেখেন কি?

আমি বেশ আশাবাদী। টেলিভিশনের সঙ্গে আমাদের এক গভীর আবেগ জড়িত। ভালো গল্পের সংস্থান, যৌক্তিক বাজেট এবং নির্মাতাদের কাজের স্বাধীনতার সুযোগ দিলে দর্শকরা আবার টিভির পর্দায় ফিরবেন। এর জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত উদ্যোগ।

বর্তমান সময়ে ওটিটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী? এই মাধ্যমে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা আছে?

কনটেন্ট পরিবেশনের ক্ষেত্রে ওটিটি দারুণ একটি মাধ্যম। তবে সত্য বলতে, আপাতত ওটিটি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে চলমান কাজগুলোতেই পুরো মনোযোগ দিতে চাই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত