বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেতে করা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এসব নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে ডাকা হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণ বা সহায়তার আবেদন নিষ্পত্তিতে ব্যাংকের বোর্ড সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বোর্ড সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এ সমস্যা দূর করতে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা বোর্ড সভা করে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মসূচির নীতিমালা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং কর্মসূচির সুফল নিশ্চিত হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্যাকেজের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে আবেদন করতে পারছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেও কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে যেসব আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।