মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে বাঁচার উপায়

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ এএম

আধুনিক জীবনের গতিশীলতা, অর্থ উপার্জনের অবাধ প্রতিযোগিতা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। ফলস্বরূপ প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ, হতাশা ও ব্যর্থতার করাল গ্রাসে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে স্বাভাবিক জীবন। এসব সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী? একজন মুসলিম হিসেবে সর্বপ্রথম আমাদের উচিত কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক, এই বিষয়ে কী বলে কোরআন ও সুন্নাহ।

জিকির : মানসিক চাপ ও হতাশা কাটিয়ে ওঠার অনবদ্য মহৌষধ হলো জিকির। জিকিরের মাধ্যমে মানসিক চাপ লাঘব হয়, অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ ২৮)

নামাজ : মানসিক চাপ ও হতাশা মানুষকে নিঃসঙ্গ করে দেয়। এমতাবস্থায় নামাজ আদায় মনকে যেমন হালকা করে তেমনি মানসিক চাপ ও হতাশা থেকেও মুক্তি দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা ১৫৩) রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের নামাজ আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম।

ইস্তেগফার পাঠ : নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, মানসিক চাপ কমায় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সুগম করে। রাসুল (সা.) প্রতিদিন সত্তর বারেরও বেশি ইস্তেগফার পাঠ করতেন। (সহিহ বুখারি)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে সব সংকট থেকে মুক্তি, সব দুশ্চিন্তা থেকে প্রশান্তি এবং ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

মাসনুন দোয়া পাঠ : মানসিক চাপ, হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে রাসুল (সা.)-এর শেখানো মাসনুন দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকরী। মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে মুক্তি পেতে রাসুল (সা.) বেশি বেশি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির রিযাল। অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (সহিহ বুখারি)

লেখক : শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত