মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪%, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬০%

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ এএম

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে এর হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। ফলে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। গতকাল বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ৭ দশমিক শূন্য২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কম রয়েছে। গত বছরের একই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। ফলে এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ০২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এবার খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেশি। গত বছরের একই সময়ে এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বিবিএসের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ সময়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে।

অন্যদিকে শহরাঞ্চলে সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে মানুষের আয় বা মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে। সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ০২ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। তিন খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে।

বিবিএস জানিয়েছে, সারা দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি হাটবাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আগস্ট মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক ও মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬০ শতাংশ : ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ ও শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এর পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ও ২ দশমিক ২২ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

চার প্রান্তিকের সাময়িক হিসাব বিবেচনায় স্থির মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত