ফুলহামের বর্ষসেরা একাডেমি ফুটবলার ফারহান 

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের একাডেমি থেকে উঠে আসা সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়কে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘জনি হেইনেস ট্রফি’ এবার উঠেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান আলী ওয়াহিদের হাতে। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই তরুণ চেলসির ঘর থেকে ফুটবল পাঠ শুরু করে পাড়ি জমানোর পর থেকেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

পেশাদার ফুটবলের প্রথম বছরেই প্রিমিয়ার লিগ টুতে দারুণ সাফল্যের পর ক্লাবটির বর্ষসেরা হওয়ার এই স্বীকৃতি এবং কিছুদিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক, সব মিলিয়ে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ উইঙ্গারের ফুটবল যাত্রায় একে একে যুক্ত হচ্ছে এক অনন্য সব মাইলফলক।

২০১৯ সালে চেলসি একাডেমি ছেড়ে ফুলহামের যুব দলে নাম লেখানোর পর থেকেই তার ফুটবল ক্যারিয়ারে শুরু হয় ঊর্ধ্বমুখী যাত্রা। গত মৌসুমে অনূর্ধ্ব-২১ প্রিমিয়ার লিগ টুতে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন ফারহান। ২১ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১৭টিতে অবদান রেখে ফুলহামকে লিগের চতুর্থ স্থানে তুলতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গত বছরের নভেম্বরে হয়েছিলেন মাসসেরা খেলোয়াড়ও। এরপর গত আগস্টে পেশাদার ফুটবলের অভিজ্ঞতা বাড়াতে ধারে যোগ দেন পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহাম উডে।

মাঠের লড়াইয়ের এই ধারাবাহিক স্বীকৃতি হিসেবে ক্লাবটির মোটসপুর পার্ক ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ফুলহাম সাপোর্টার্স ট্রাস্টের কাছ থেকে বিশেষ এই সম্মাননা গ্রহণ করেন ফারহান। ফুলহামের সর্বকালের সেরা কিংবদন্তি খেলোয়াড় জনি হেইনেসের নামে প্রবর্তিত এই ‘জনি হেইনেস ট্রফি’ মূলত ক্লাবটির একাডেমি থেকে উঠে আসা সেরা তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারকে দেওয়া হয়ে থাকে, যা ২০১৯ সাল থেকে চালু রয়েছে। 

সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সম্মিলিত ভোটাভুটিতে এই পুরস্কার অর্জনের পর নিজের তৃপ্তির কথা জানিয়ে ফুলহামের ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারহান বলেন, ‘এ পুরস্কারের জন্য সতীর্থদের ভোট পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার, অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি। সতীর্থদের ছাড়া আমি এটি অর্জন করতে পারতাম না। তারাই মানদণ্ড ঠিক করে দেয়, অনুপ্রেরণা জোগায় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যা আমাকে ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। অতীতে যারা এই ট্রফি জিতেছে, তাদের নামের তালিকায় তাকালে বোঝা যায় এটি কত বিশেষ এক অর্জন।’ 

ক্লাব ফুটবলের সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছেন ফারহান। ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছে তার, যেখানে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে লাল-সবুজ জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটিও পেয়ে যান এই উইঙ্গার।

দেশের হয়ে খেলার সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে ফুলহামের ওয়েবসাইটকে ফারহান বলেন, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য সত্যিই দারুণ এক ব্যাপার ছিল। এটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত এবং দলের হয়ে একটি গোল করতে পেরে আমি আনন্দিত।’ 

এদিকে প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের সামনে গোলের সেই মুহূর্তটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের সামনে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছি, আর স্টেডিয়ামের পরিবেশ এই অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ অন্য রকম এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। সামনে আন্তর্জাতিক বিরতিতে আমাদের ম্যাচগুলো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে, আমি ইতিমধ্যেই প্রচুর বার্তা পেয়েছি এবং এর জন্য আমি সত্যিই অধীর অপেক্ষায় আছি।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত