কাল মহালয়া, ৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজার মহাযজ্ঞ

পুরাণে বলা হয়েছে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যে তার আগমন ঘটে। শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হবে নৌকায়।
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
আকাশে-বাতাসে দেবীর আগমনী সুর আর মণ্ডপে মণ্ডপে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচিত হচ্ছে দেবীপক্ষ। রাত পোহালেই শনিবার (১০ অক্টোবর) শুভ মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে এই বিশেষ তিথির মাধ্যমে।

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে চণ্ডীপাঠ, তর্পণ, ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তর্পণের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মার শান্তি কামনা করবেন।
 
পুরাণে বলা হয়েছে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যে তার আগমন ঘটে। শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হবে নৌকায়।
 
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে মূল দুর্গাপূজা শুরু হলেও মহালয়া থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়বে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির, জগন্নাথ হল উপাসনালয়সহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ভোরে চণ্ডীপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীকে আহ্বান জানানো হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে এবার সরকারের পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোতে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
 
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই আনন্দ উৎসব। আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার বার্তা নিয়ে এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত