ফুলবাড়ী দাশিয়ারছড়া সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয়

সংকট কাটেনি এক দশকেও, ব্যাহত পাঠদান, দায় কার?

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়া। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয়। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তও হয়। তবে এক দশকেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থা কাটেনি।

শ্রেণিকক্ষে জরাজীর্ণ টিনের চাল, বৃষ্টির পানি পড়া, পাখার সংকট এবং শৌচাগারের বেহাল দশায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এর পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ও উপস্থিতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলোর টিনের চাল পুরোনো ও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে চাল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। কোন শ্রেণী কক্ষে নেই পাখার ব্যবস্থা। শৌচাগার ও বাথরুমের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। এমন পরিবেশে পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র, প্রায় ১৭২ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা জানা গেলেও সরেজমিনে শ্রেণিকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। তবে এটি বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর উপস্থিতির চিত্র কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের নিয়োগ নীতিমালা অনুসারে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা আটজন হওয়ার কথা। অথচ বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় ১২ জনের নাম পাওয়া গেছে।

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১০-এর সংশোধনী-২০১৩ অনুসরণ না করেই প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির জন্য ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হলেও সেখানে নিয়মিত ক্লাস হয় না। সংগীত শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত সংগীতচর্চা নেই। সরকারি পাঠ্যবই সরবরাহের পরও কিছু বই শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে শ্রেণিকক্ষে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। এই এলাকার সন্তানদের জন্য এটি একটি আশার জায়গা। কিন্তু অবকাঠামোর এমন বেহাল দশা দেখে কষ্ট হয়। যে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখাবে, সেই প্রতিষ্ঠানই যেন নানা সমস্যায় অন্ধকারে পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের সময় পাখা না থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকাও কষ্টকর। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

এদিকে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষা উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও উপস্থিতিসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর-ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ফুলবাড়ী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং বিদ্যালয়টি পরিদর্শনও করেছেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতারও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত