তামিম-সাদমানদের ব্যাটে চড়ে আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিনের শুরুটা দারুণ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মিডল অর্ডাররা ধরতে পারেননি সেই রানের চাকা। লিটন দাস রানে ফিরে কিছুটা এগিয়ে নিয়েছেন অবশ্য। সব মিলিয়ে শুরুর দাপটের পর শেষটা হলো ফিকে। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৮৪ ওভারে ৮ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ৩১৭ রান জমা করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
১ উইকেটেও যখন স্কোরকার্ডে ছিল ১৮৪ রান তখন দিনটা পুরোদস্তুর বাংলাদেশেরই মনে হচ্ছিল। টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারই ছিলেন ছন্দে। তবে ইয়ামিন-সালিমদের পেসে নড়বড়ে বনে গেল মিডল অর্ডারের শান্ত-মুশফিকরা। তাতেই বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হয়ে অলআউটের আগে দিনশেষে আপাতত তিনশ ছাড়াল বাংলাদেশের সংগ্রহ।
এই প্রথম কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে এর আগে কেবল ১৫টি টেস্ট হয়েছে। সেখানে ম্যাচ নিস্পত্তি হয়েছে ১১ বার, তার মধ্যে ৯ ম্যাচেই যারা আগে ব্যাট করেছে তারাই ম্যাচ জিতেছে। সেখানে যখন টসে জিতলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তখন সিদ্ধান্তে কোনো শঙ্কাই ছিল না।
টস ভাগ্যের মতো শুরুর ব্যাটিং ভাগ্যটাও ছিল বাংলাদেশের দখলেই। শুরুটা তানজিন তামিম দিয়ে শুরু। ওয়ানডে মেজাজে এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই। মাত্র ৪১ বলে হাফ-সেঞ্চুরিটাও তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। ৭১ বলে ৮৩ রানের ইনিংসটি সাজান ৮টি চার ও ৪টি ছয়ের সাহায্যে৷
বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তখন ১ উইকেটে ১২৪ রান। ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৫ রানের মাথায় জীবন পাওয়া আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম তখন ধরেন রানের চাকা। তাকে ভালোভাবেই সঙ্গ দেন মুমিনুল হক। তবে ফিফটি তুলে নিয়ে সাদমানও টিকলেন না বেশিক্ষণ। মুমিনুল সঙ্গে তার জুটি থামে ৬০ রানে। ১১১ বলে ৭ চারের মারে ৬৭ রান করে ফেরেন সাদমান।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল দ্বিতীয় সেশনের শেষটা খেলছিলেন বেশ দেখেশুনেই। সেখানে ঘটে বিপত্তি। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে আফগানদের ম্যাচে ফেরানোর ত্রাতা হয়ে আসেন পেসার ইয়ামিন। সেই ওভারে মুমিনুলকে (৩৯) ফেরানোর পরের ওভারে বোল্ড করে ফেরান মুশফিককে। ৭ বলে কোনো রান করে ফেরেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ১৯৪ ইনিংসে এটি তার ১৪তম শূন্য রানের ইনিংস। তার পরের ওভারে লেগ স্পিনার কায়েস আহমেদের বলে ফেরেন শান্তও (২৯)। এতে ৪ রানের মধ্যেই নেই ৩ উইকেট। ২ উইকেটে স্কোরবোর্ড ২২১ থেকে ৫ উইকেট থামে ২২৫ রানে।
সেই চাপ অবশ্য সামলেই নিয়েছিলেন লিটন ও মিরাজ। দিনের বাকি সময়টা হয়তো টিকে থেকেই শেষ করতে চাচ্ছিলেন দুজনে। তবে দলীয় ২৮৭ রানের মাথায় ইসমাত আলমের বলে বোল্ড হন মিরাজ (২৪)। দিনের বাকি সময়ে রানে ফিরে লিটনের হাফ-সেঞ্চুরি ছাড়া ঘটেনি উল্লেখযোগ্য কিছু। লাল বলের ক্রিকেটে টানা তিন ইনিংস ‘ডাক’ মারার পর হাফ-সেঞ্চুরি আগে রানের খাতা খুলেই ব্যাটটা উঁচিয়ে ধরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৫৩ রান করে ফেরেন লিটন, আর ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তুলে শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা।
আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন সালিম, দুটি করে নেন ইসমাত ও ইয়ামিন।
৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে বাংলাদেশ