সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। সে যে দলেরই হোক না কেন,আমার দলের হোক আর অন্য দলের হোক, আমি হই বা আপনারা যেই হোন না কেন। অন্যায় করলে মনে রাখবেন যে আইনের আওতায় আপনাদের আসতেই হবে।

শুক্রবার (৯অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, আইন অন্ধভাবে চলবে, আপনারা যে দলেরই হোন, যত বড় মাপের নেতাই আমরা হই না কেন, আমরা আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। কাজেই এটা আপনারা সবাই মাথার মধ্যে রাখবেন যে কোনো অবস্থাতে কেউ যাতে কোনো অন্যায় না করে। এ ব্যাপারে সব সময় সবাইকে নিরুৎসাহিত করবেন যে আইন আইনের মতো চলবে, কোনো অবস্থায় জোর-জবরদস্তি করা যাবে না।

এসময় তিনি বলেন, সবাই আমরা একসাথে এমনভাবে কাজ করব যাতে সুশৃঙ্খলভাবে, সুষ্ঠুভাবে,সুন্দরভাবে, উৎসবমুখর পরিবেশে এই দুর্গাপূজার উৎসব প্রতিপালিত হয়। মানুষ যাতে নিশঙ্কচিত্তে এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের পূজার ধর্মীয় যে উৎসব সেটি পালন করতে পারে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইরা। সেজন্য আমরা সবাই সজাগ দৃষ্টি রাখব ও খেয়াল রাখব। আর এই পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর করার সাথে সাথে আমাদের বর্তমান সরকারের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার,আমরা যে একটি একীভ‚ত অর্থাৎ ইনক্লুসিভ একটি বাংলাদেশ আমরা চাই। অর্থাৎ যে যেই ধর্মেরই হোন না কেন,যে বর্ণের হোন না কেন,সবার প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় দেখেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সরকার এবার পূজার যে অনুদান সেটি প্রত্যেক মণ্ডপের জন্য ১শ কেজি করে চাল আগেই উনি বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে আপনাদের যে হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট রয়েছে সেটির আগের যে অনুদানের পরিমাণ ছিল, তার থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবার বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে যাতে পূজাটা সুন্দরভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে এবং সবাই যার যার বাড়িতে গিয়ে করতে পারে, সেজন্য ছুটির পরিমাণও দেখবেন এবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ পাঁচ দিনের ছুটি হয়েছে।

অর্থাৎ পূজা যাতে মানুষ সুন্দরভাবে করতে পারে,সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই বোনেরা,সেজন্য সরকার না চাওয়ার আগেই তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে।অর্থাৎ আমরা সব সময়ই প্রত্যেকটা মানুষকে আমরা তার যে কষ্ট,তার যে সুবিধা অসুবিধা সেদিকে খেয়াল রাখা বর্তমান সরকারের একটা নির্বাচনী অঙ্গীকার। 

তিনি আরও বলেন,দেখবেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড আপনার খুঁজতে হবে না, এটা আপনাদের বাড়ি বাড়ি যাবে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে কোনো পাঁচ টাকাও দিতে হবে না, পাঁচ পয়সাও দিতে হবে না। আজকের যত সুবিধা কোনোটা নেওয়ার জন্য আপনার কোনো টাকাপয়সা লাগবে না। এগুলো আপনাদের অধিকার,এগুলো আপনাদের জিনিস আপনাদেরকেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার, কোনো কর্মকর্তা অথবা আমাদেরকে কোনো পয়সা কড়ি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি কেউ পয়সাকড়ির কথা কখনো কোথাও বলে, প্রশাসনের লোক রয়েছে,আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা আছে,দলের কর্মকর্তারা আছে,তাদেরকে জানাবেন। সমাজে তো অনেক দুষ্ট প্রকৃতির লোক আছে, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অনেক কিছু করার চেষ্টা করে। এগুলো যাতে না হয় এ ব্যাপারে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। 

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ সময় সেখানে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মেহদি ইমাম, বিরামপুর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান,সাধারন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন,প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা ।




 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত